× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ট্রাম্পের সামরিক আগ্রাসনের হুমকির পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক

বিবিসি

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:০৪ পিএম । আপডেটঃ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:০৫ পিএম

গ্রিনল্যান্ডের উপকূলে সুমুদ্র ও হিমশৈলের সামনে দ্বীপটির নিজস্ব জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে ধরেছেন স্থানীয় অধিবাসী ও পরিদর্শকেরা।

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডকে বলপ্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার কয়েক মাসের কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও সামরিক হুমকির অবসান ঘটিয়ে দ্বীপটির স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে গ্রিনল্যান্ডের "নিরাপত্তা ও অন্যান্য সব চাহিদার ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ" হিসেবে বর্ণনা করলেও ডেনমার্ক সরকার দাবি করেছে, এটি আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের স্বাধিকার নিশ্চিত করবে। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া এই চুক্তিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরণের একটি মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নজিরবিহীন এই সমঝোতার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আর্থিক খরচ ছাড়াই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ডে একতরফা সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ, নতুন সৈন্য মোতায়েন এবং আকাশপথ ব্যবহারের অবাধ পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড যদি ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনও হয়ে যায়, তবুও মার্কিন সামরিক সুবিধার এই ধারাটি বলবৎ থাকবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বাদে নেটোবহির্ভূত অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি—বিশেষ করে চীন ও রাশিয়া যাতে দ্বীপটিতে ঘাঁটি তৈরি করতে বা সংবেদনশীল খাতে একক বিনিয়োগ বা প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, তার কঠোর বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সুমেৰু ও উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে বিরল খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এবং ভৌগোলিক দিক থেকে অতি-কৌশলগত গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অনড় অবস্থান নিয়েছিলেন। রাশিয়া ও চীনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে তিনি গ্রিনল্যান্ডে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন, যা ন্যাটো জোটে নজিরবিহীন তোলপাড় সৃষ্টি করে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে "যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিরাট এক বিজয়" হিসেবে উল্লেখ করে জানান, চুক্তিটি আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের উদ্বেগের চিরস্থায়ী সমাধান টেনেছে।

অপরদিকে, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের আঞ্চলিক সরকারের চেয়ারম্যান জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন চুক্তিটির ইতিবাচক দিক তুলে ধরে একে সর্বপক্ষীয় স্বার্থরক্ষার উপায় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাহী পর্যায়ে চুক্তিটি হলেও এটি কার্যকর করতে এখন ডেনমার্কের নিজস্ব সংসদীয় অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

অবশ্য পূর্ণাঙ্গ লিখিত নথিটি প্রকাশ না করায় ১৯৫১ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির তুলনায় নতুন এই সমঝোতা ডেনমার্কের ভূখণ্ডের ওপর কতটা মার্কিন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৯৫১ সাল থেকেই গ্রিনল্যান্ডের 'পিটুফিক' সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা সক্রিয় থাকলেও, বর্তমানের নজিরবিহীন বিধিনিষেধের ফলে সামগ্রিক আর্কটিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা সমীকরণে ওয়াশিংটনের নিরঙ্কুশ আধিপত্য চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.