ছবি: সংগৃহীত
উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর আন্তর্জাতিক জোট ব্রিকসের (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে জোটের ভেতরে সার্বিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন চীন, রাশিয়া ও ভারতের রাষ্ট্রপ্রধানেরা। রোববার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিশ্ব ব্যবস্থার বিভিন্ন বৈষম্য নিরসনে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির’ ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর আগে সম্মেলনের প্রথম দিনে তীব্র কূটনীতি ও আলোচনার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সংযম পালনের আহ্বান জানিয়ে একটি বিরল যৌথ সমঝোতায় পৌঁছান বিশ্বনেতারা।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০৯ সালে গঠিত পশ্চিমা প্রভাবমুক্ত এই শক্তিশালী জোটটির শেষ দিনের অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ বৈশ্বিক জিডিপি এবং ২৫ শতাংশেরও বেশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্ব করে ব্রিকস। আমাদের শক্তি নিহিত রয়েছে এর বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যে।” মোদি আরও বলেন, ভিন্ন ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা সত্ত্বেও মানব কল্যাণে যৌথভাবে কাজ করার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে এই জোটের।
শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক চরম সংঘাতময় পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থায় ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে গভীর মতভেদ সত্ত্বেও ভারতের ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতায় এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ চীন, রাশিয়া ও ভারতের সম্মতিযুক্ত এই বিবৃতিতে পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের জোর তাগিদ দেওয়া হয়। মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক তেলবাজার স্থিতিশীল রাখতেই এই বিরল সমঝোতায় পৌঁছেছে সদস্য দেশগুলো।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ২০১৯ সালের পর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালে তিব্বতের হিমালয় সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করার পর এটাই কোনো বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠককালে সি চিন পিং বলেন, “আমাদের বৈচিত্র্য থাকলেও পরস্পরের পরিপূরক হয়ে কাজ করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমতাভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।”
অবশ্য বাণিজ্য ঘাটতি এবং সীমান্ত বিরোধ সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি না হলেও উভয় দেশই বিতর্কিত প্রায় এলাকায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে ‘ন্যায্য ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ সমাধানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এদিকে সম্মেলনস্থল নয়াদিল্লিতে সি চিন পিংয়ের সফরের বিরুদ্ধে নির্বাসিত তিব্বতিদের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হলেও, সামগ্রিকভাবে ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনটি বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ও জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ব রাজনীতির এক নতুন কৌশলগত মেরুকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
