জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর দারিদ্র্য দূরীকরণ, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করতে 'গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর সাউথ-সাউথ অ্যান্ড ট্রায়াঙ্গুলার কোঅপারেশন' নামের এক নতুন বৈশ্বিক জোট বিশ্বব্যাপী টেকসই পরিবর্তনের সূচনা করবে। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) 'জাতিসংঘ দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা দিবস' উপলক্ষে দেওয়া এক আন্তর্জাতিক বাণীতে তিনি বিশ্বের জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ও বিশ্বায়নে পিছিয়ে পড়া দেশগুলোকে পারস্পরিক সংহতির মাধ্যমে একসূত্রে বাঁধার এই যুগান্তকারী বার্তা দেন।
আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর নিজেদের উদ্ভাবিত টেকসই সমাধান, সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও প্রযুক্তি বহুমাত্রিকভাবে ছড়িয়ে দিতে নতুন প্রতিষ্ঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি বিশেষ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। সরকার, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংক, শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতকে একই ছাতার নিচে এনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রত্যক্ষ মেলবন্ধন ঘটাবে এই জোট।
এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য "উন্নীত সংহতি: অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক জোট" উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব তাঁর বার্তায় জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা, সবুজ শক্তির প্রসার এবং স্বাস্থ্য সংকট নিয়ন্ত্রণে গ্লোবাল সাউথের নিজস্ব সক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা উন্নয়নের শক্তিশালী চালিকাশক্তি হলেও এটি উত্তর-দক্ষিণ সহযোগিতার প্রতি উন্নত বিশ্বের দায়বদ্ধতা এবং বৈশ্বিক বৈষম্য কমানোর বাধ্যবাধকতাকে এতটুকু হালকা করে না।”
তিনি আরও বলেন, “সংকট ও বিভাজনের এই সময়ে দক্ষিণ-দক্ষিণ অংশীদারত্ব আন্তর্জাতিক পুনর্জাগরণের জন্য একটি কার্যকর অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। কোথাও কোনো কার্যকর সমাধান তৈরি হলে, তা যেন বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।”
উন্নয়নশীল বিশ্বের পারস্পরিক এই ঐতিহাসিক জোট গঠন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ, অর্থনৈতিক সমতা অর্জন এবং বৈশ্বিক সংকট উত্তরণে বহুপাক্ষিক কূটনীতিকে আরও বেগবান করবে বলে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।