× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

এভারেস্টের হিমবাহ গলার নেপথ্যে মানুষের কর্মকাণ্ড, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন বিজ্ঞানীরা

ন্যশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫২ পিএম । আপডেটঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:১৯ পিএম

নেপালের সোলুখুম্বু জেলায় খুম্বু হিমবাহের ওপর গড়ে ওঠা এভারেস্ট বেজ ক্যাম্প, যেখানে মানুষের মাত্রাতিরিক্ত কর্মকাণ্ড ও জ্বালানি ব্যবহারের কারণে আশপাশের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেই বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্টের বরফ ও হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার পেছনে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশ করেছেন জলবায়ুবিজ্ঞানীরা। গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ও সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ নিখোঁজের পর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের পাশাপাশি এভারেস্ট বেজ ক্যাম্পে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত আনাগোনা ও বর্জ্য ফেলার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বরফ গলে যাচ্ছে।

'রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ' সাময়িকীতে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গবেষক দলের প্রতিবেদনে বলা হয়, বসন্তকালে পর্বতারোহণের মৌসুমে এভারেস্ট বেজ ক্যাম্পে জ্বালানি পোড়ানো থেকে উৎপন্ন উত্তাপ এবং হিমবাহের ওপর সরাসরি মানবমূত্র ত্যাগের ফলে প্রতি মৌসুমে আনুমানিক ২,৪৯২ টন (প্রায় ২, ৫০০ টন) বরফ ও তুষার গলে যাচ্ছে।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বেজ ক্যাম্প এলাকার তাপমাত্রা বছরে গড়ে ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা খুম্বু হিমবাহের আশপাশের সাধারণ এলাকার গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হারের প্রায় দ্বিগুণ।

গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমে বেজ ক্যাম্পের ১,৬০০টি তাঁবুতে জ্বালানি হিসেবে ৮২৪টি এলপিজি সিলিন্ডার, ১৮,৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫,১৩০ লিটার পেট্রল পোড়ানো হয়। এর পাশাপাশি দৈনিক সেখানে জমা হওয়া প্রায় ৬,০০০ লিটার মানবমূত্র হিমবাহের গায়ে সরাসরি ফেলার ফলে সৃষ্ট উত্তাপে শুধু এক মৌসুমেই প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলেছে।

নেপালের ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের জ্যেষ্ঠ জরিপবিদ ও গবেষণা দলের সদস্য কিম লাল গৌতম বলেন, “মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত প্রভাব সম্ভবত এর চেয়েও বেশি। কারণ অনুসন্ধানে হেলিকপ্টার চলাচল, পর্বতারোহী ও মালামাল বহনকারী ইয়াকের শরীরের উত্তাপ হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি।”

পরিবেশবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনই হিমবাহ গলার প্রধান কারণ হলেও, দ্রুত গলে যাওয়া সংবেদনশীল একটি হিমবাহের ওপর প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের সমাগম এই বিপর্যয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বেজ ক্যাম্পের ভৌগোলিক অবস্থান পরিবর্তন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবিলম্বে কঠোর না করলে হিমালয় অঞ্চলে এই ধরণের প্রাণঘাতী পরিবেশগত বিপর্যয় ভবিষ্যতে আরও মারাত্মক রূপ নেবে।



তথ্যসূত্র : ইনডিপেনডেন্ট



National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.