নাসার টেরা স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। ছবি: এএফপি
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন আশঙ্কাজনক হারে কমে গেলেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা নজিরবিহীন ঝুঁকির মুখে পড়া সত্ত্বেও প্রধান আমদানিকারক দেশ চীনে তেলের চাহিদা হ্রাস, বিশ্বব্যাপী পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ব্যবহার কমে যাওয়া এবং ওপেকের বাইরের দেশগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে জ্বালানির বাজার আপাতত কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আর্গাসের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দৈনিক সরবরাহ ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল থেকে কমে বর্তমানে ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। বিশেষ করে আগস্টের শেষভাগ থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের গতিপথ অবরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, যেখানে স্বাভাবিক সময়ের দিনে ৮০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল পরিবহনের বিপরীতে এখন গড়ে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হচ্ছে। ২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বড় আকারের কোনো সুপারট্যাংকারকে এই পথ দিয়ে বের হতে দেখা যায়নি।
তবে এই ভয়াবহ সরবরাহ ঘাটতি সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে আগুন না লাগার মূল কারণ বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদায় হঠাৎ বড় ধরনের ধস। জ্বালানি বিষয়ক বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রিস্টাডের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল কমে গেছে, যার সিংহভাগই ঘটেছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ চীনে। পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের জোয়ার এবং কয়লাভিত্তিক রাসায়নিক শিল্পের প্রসারের ফলে চীনে তেলের চাহিদা আশঙ্কাজনক হারে কমে দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেলে নেমেছে, যা গত ফেব্রুয়ারিতেও ছিল ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল।
আমদানিকারক দেশগুলোর বিকল্প রপ্তানি পথ ব্যবহারের তৎপরতাও দাম নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাক হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে অন্যান্য সমুদ্র বন্দর ও বাইপাস পাইপলাইনের মাধ্যমে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের কৌশল গ্রহণ করেছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও গায়ানা চলতি বছরেই ওপেকের বাইরে থেকে সম্মিলিতভাবে দিনে আরও ১৪ লাখ ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উৎপাদনে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ঘাটতি আংশিক পূরণ করছে।
সংকট কাটাতে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োগ হলেও তেলের স্পট মার্কেট বা তাৎক্ষণিক ক্রয়-বিক্রয়ের বাজারে কিন্তু এর তীব্র প্রভাব পড়েছে। দুবাই ও ওমানের ফিউচার মার্কেটে ইতিমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৪ থেকে ১০৫ ডলার ছাড়িয়েছে। রিস্টাড এনার্জির প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্লদিও গালিমবার্তি বলেন, "বর্তমান বাস্তবতায় ব্রেন্ট ক্রুডের একটি 'ন্যায্য দাম' ৯৫ ডলার হওয়া উচিত হলেও সরবরাহ ব্যবস্থার ভঙ্গুরতার কারণে বাজার অস্থির হয়ে আছে।"
বাজার বিশ্লেষক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, তেলের বাজারে এই সাময়িক স্থিতি খুব বেশি দিন স্থায়ী নাও হতে পারে। বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক মরগ্যান স্ট্যানলি ও গোল্ডম্যান স্যাকস তাদের বার্তায় উল্লেখ করেছে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকেই ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ১০০ ডলার স্পর্শ করতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
