× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরানের রহস্যময় ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে ফের হামলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

ন্যশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৫৪ এএম । আপডেটঃ ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৫৫ এএম

স্যাটেলাইট ছবিতে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে শক্ত গ্রানাইট পর্বতের গভীরে নির্মিত কৌশলগত 'পিকঅ্যাক্স' ভূগর্ভস্থ স্থাপনার প্রবেশমুখ। নাতাঞ্জ, ইরান, ৩০ জুন ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী হামলায় ইরানের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নাতাঞ্জের অদূরে শক্ত গ্রানাইট পাথরের গভীরে অবস্থিত ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতের অঘোষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি এখনও অক্ষত রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে ‘খুব শিগগির’ পুনরায় সামরিক হামলা চালানোর সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ হুঙ্কার দেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৬০ দিনের কূটনৈতিক আলোচনার সময়সীমা চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাতকে আরও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।

রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পরিচিত নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পর্বতটির স্থানীয় নাম ‘কুহ-ই কোলাং গাজলা’। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, মূল নাতাঞ্জ ও ফোর্দো স্থাপনা লক্ষ্য করে ২০২৫ সালের জুনে চালানো মার্কিন হামলায় ১৮ হাজারের মতো সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভূগর্ভস্থ অন্তত ১০০ মিটার গভীরে নির্মিত পিকঅ্যাক্স পর্বতের সুড়ঙ্গগুলো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত অবস্থায় রয়ে গেছে। আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক অবকাঠামো পুনর্গঠন, হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ সংরক্ষণ ও উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে নিতে ইরান এই পর্বতটিকেই বর্তমানে প্রধান আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে আশঙ্কা করছে পশ্চিমা বিশ্ব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, “যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগির ইরানের এই ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে।” তবে ইরান শুরু থেকেই ট্রাম্পের এই সামরিক হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে অসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং এতে কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নেই।

পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর সাইন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি’ জানায়, কেন্দ্রটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি সক্রিয় না হলেও সম্ভাব্য হামলা এড়াতেই পাহাড়ের গভীরে এটি তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার না থাকায় প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং সেগুলোর প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা ঠিক কতটা অক্ষত রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাদের হাশেমি আল-জাজিরাকে বলেন, “ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে; কারণ সাম্প্রতিক দুই দফা হামলায় দেশটির প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে তা নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।” যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন হামলার এই পূর্বাভাস অবরুদ্ধ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পথ বন্ধ করে গোটা অঞ্চলে এক অনিশ্চিত ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কালো ছায়া ফেলছে।



তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.