ওমান উপসাগর ও খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শনিবার আঞ্চলিক জলসীমায় টহলরত একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের কোটি কোটি ডলারের অর্থায়ন বন্ধে চালানো এই হামলায় ইরানের দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে এবং তৃতীয়টি ধ্বংস করা হয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, আইআরজিসির ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের যুদ্ধজাহাজ দুটি এড়াতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে কোনো মার্কিন সৈন্য হতাহত হননি। তবে এর পরপরই মার্কিন সামরিক বাহিনী ওমান উপসাগরে থাকা ইরানের বাণিজ্যিক তেল বহরে সুনির্দিষ্ট ও তীব্র হামলা চালায়। ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইরানের সামরিক বাহিনীকে বলেন, “আইআরজিসির জন্য বার্তাটি স্পষ্ট। আপনারা যদি আমাদের দুটি জাহাজে হামলা করেন, তাহলে আপনাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করে আমরা আরও বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি করব। মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করতে আমরা দ্বিধা করব না; প্রয়োজন হলে ইরানের পুরো তেল পরিবহনের নৌবহর অচল করে দেওয়া হবে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করার পর কিছুদিনের শিথিলতা শেষে সংঘাত আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ায় দুই দেশই এখন একে অপরকে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার কৌশল নিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই জলসীমায় বিশ্ব বাণিজ্য পথ এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও অনিশ্চয়তা ও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ল।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা