৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার তীব্র পানি সংকটে ইসরায়েল
মো. ইলিয়াছ হোসেন
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০৪ পিএম । আপডেটঃ ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০৯ পিএম
ইসরায়েলের পানি শোধনাগার। ছবি: সংগৃহীত
ভূমধ্যসাগর উপকূলে অভূতপূর্ব সামুদ্রিক শৈবালের (মাইক্রোঅ্যালগি) তীব্র বিস্তারের কারণে অধিকাংশ পানি শোধনাগার অচল হয়ে পড়ায় ৭৮ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম তীব্র সুপেয় পানির সংকটে পড়েছে ইসরায়েল। দেশটির জাতীয় পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেকোরোট’-এর তথ্য অনুযায়ী, উপকূলের অন্তত ১৯ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ক্ষুদ্র শৈবাল ছড়িয়ে পড়ায় লোনা পানি পরিশোধনের ছয়টি সুবৃহৎ শোধনাগারের মধ্যে পাঁচটিই সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুষ্ক জলবায়ুর দেশটিতে মোট গৃহস্থালি ও সুপেয় পানির প্রায় ৬৫ শতাংশ সমুদ্রের পানি শোধনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়, ফলে এই আকস্মিক বিপর্যয়ে চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ নাগরিক ও কৃষকেরা।
লবণ পানি পরিশোধন করার প্রযুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বেন-গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি গবেষণাবিষয়ক অধ্যাপক ইদো বার-জিভ জানিয়েছেন, মিশরের নীল নদের বদ্বীপ এলাকা থেকে উৎপন্ন এই সামুদ্রিক শৈবাল সামুদ্রিক স্রোতের তোড়ে ইসরায়েল উপকূলে ছড়িয়ে পড়ে অতি দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। আধুনিক ‘রিভার্স অসমোসিস’ প্রযুক্তিতে কাজ করা শোধনাগারগুলোর সূক্ষ্ম ঝিল্লি (মেমব্রেন) এই শৈবাল ও এর থেকে নিঃসৃত তরলে দ্রুত অবরুদ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় পুরো শোধন প্রক্রিয়া অচল হয়ে যায়। বিগত ২০ বছর ধরে উপকূলীয় পানি নিয়ে কাজ করা এই গবেষক ঘটনাটিকে নজিরবিহীন ও চরম উদ্বেগের বলে আখ্যা দেন।
ভূমধ্যসাগরের ইসরায়েল উপকূলে ক্ষুদ্র শৈবাল প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মেকোরোটের মুখপাত্র লিওর গুটম্যান বলেন, “ইসরায়েলে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। প্রখর গ্রীষ্মকালে যখন পানির চাহিদা সবচেয়ে শীর্ষে, ঠিক তখনই এই সংকট দেখা দেওয়ায় বিশেষ করে কৃষিখাত ও সেচ ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।”
গ্যালিলি সাগর। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভৌগোলিক তাপমাত্রা ও সমুদ্রের রাসায়নিক উপাদান বদলে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। প্রযুক্তি নির্ভর বৃহৎ শোধনাগারগুলো কেবল সামুদ্রিক শৈবাল নয়, বরং আঞ্চলিক সামরিক সংঘাত, সাইবার হামলা কিংবা সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতিতে শতভাগ বিকল হয়ে পড়ার যে বড় ঝুঁকি তৈরি করে, ইসরায়েলের বর্তমান পরিস্থিতি সেই বিষয়টিকেই নতুন করে স্পষ্ট করে তুলল।