নেপালের ত্রিশূলী নদী সংলগ্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাদা ও শিলায় ঢেকে যাওয়া সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে পাহাড় কেটে পথ তৈরি করছেন উদ্ধারকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের রসুয়া অঞ্চলের ত্রিশূলী নদীর তীরে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে কাদায় ঢাকা পড়া বিশাল সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কে আটকে পড়া শত শত বিদ্যুৎকর্মীকে উদ্ধারে পাহাড় কেটে ও সুড়ঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। বিবিসি নেপালির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবারের প্রলয়ংকরী বন্যায় ভোটেরকোশী-ত্রিশূলী নদীর তীরে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ কর্মীর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারে নিয়োজিত নেপাল ও চীন সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক কারিগরি দল যৌথভাবে পাহাড় কেটে ও ভেতরে বাতাস পাম্প করে অলৌকিকভাবে কাউকে জীবিত উদ্ধারের শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বসনেত জানান, রাসুওয়াগাধি, লাংটাং, চিলিমে, আপার ত্রিশুলি ৩এ এবং ৩বি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল লক্ষ্য করে বর্তমানে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বহু মিটার কাদা ও গৃহাকৃতির বিশাল শিলা জমে টানেলের প্রবেশ মুখগুলো ঢাকা পড়ায় চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সময় যত গড়াচ্ছে টানেলের ভেতরে জমে থাকা অক্সিজেনের ওপর ভরসা করে টিকে থাকা স্বজনদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তত ক্ষীন হয়ে আসছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তজুড়ে এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯৩৯ জনে এবং সংশোধিত হিসাবে নিখোঁজের সংখ্যা ৩ হাজার ৯২৫ জন, যার প্রতি সাতজনের মধ্যে একজনই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী।
অস্ট্রেলীয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স বলেন, “প্রকল্পগুলোর আসল চিহ্নই হারিয়ে গেছে—সবকিছু যেন উধাও হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠের মতো দেখাচ্ছে। সুড়ঙ্গে পৌঁছাতে আমাদের ঘরের চেয়েও বড় বড় পাথরে বিস্ফোরণ ঘটাতে হচ্ছে, তবে ভূগর্ভের সুরক্ষিত অবস্থান হয়তো অনেকের জীবন বাঁচিয়ে রাখতে পারে।”
এদিকে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, এখন পর্যন্ত দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে ১১ হাজার ৩৭৯ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে প্রকল্প এলাকা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ২৭৯ জনকে। অন্যদিকে শত শত অজ্ঞাত মৃতদেহ পাহাড়ের ঢল থেকে তলে ভেসে গিয়ে ভাটির চিতওয়ান জেলায় জমা হলে, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা রেখে সেগুলোকে গণকবর দিতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। তিব্বতেও সরকারিভাবে ১৬ জন নিহত হওয়ার খবর জানা গেছে, তবে চীন ও নেপাল উভয় দেশই অনাকাঙ্ক্ষিত গুজব এড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর কঠোর আইনি তদারকি জারি করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও যৌথ উদ্ধারকারী দলগুলো এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টানেলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন, যাতে ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও বেঁচে থাকা কর্মীদের নিরাপদে বাইরে আনা যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
