মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কর্মকর্তারা গতকাল সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠক করেন। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র সামরিক সংঘাতের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইস্তাম্বুলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সদস্যদেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। জোটের কার্যক্রম পরিচালনায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে স্থায়ী সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার প্রথম মহাসচিব নিযুক্ত হবেন পাকিস্তান থেকে।
সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ওই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠা ও কাঠামোগত রূপরেখা তুলে ধরেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদসহ তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তির অধীনে গঠিত রাজনৈতিক ও কৌশলগত কমিটি এটিকে কার্যকর করার পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া, অবকাঠামোগত গবেষণা ও সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয়ের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জোটের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাসহ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মতো আন্তর্জাতিক নীতির ওপর ভিত্তি করে জোটটি গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশের অংশীদারত্ব ও অংশগ্রহণের জন্য জোটটি উন্মুক্ত থাকবে।”
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত এই জোট আঞ্চলিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ন্যাটোর ‘অনুচ্ছেদ ৫’-এর মতো যৌথ প্রতিরক্ষার রূপরেখা থাকলেও, এর সুনির্দিষ্ট আইনি ও সামরিক কাঠামোর স্বচ্ছতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র মতামত রয়েছে। কাতার ইউনিভার্সিটির গবেষক সিনেম চেঙ্গিজ জানান, চুক্তিটি তুরস্কের পার্লামেন্টে চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এর পূর্ণ শর্তাবলি পরিষ্কার জানা যাবে।
এদিকে পাকিস্তানের জন্য তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতাকারী এবং একই সঙ্গে এই যৌথ জোটের প্রধান অংশীদার হিসেবে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা একটি বড় পরীক্ষা। আঞ্চলিক যুদ্ধ থামার পর এই প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়, তার ওপরই ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এর ভবিষ্যৎ প্রভাব ও কার্যকারিতা নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
