পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে কাদামাটির নিচে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি ও লোকালয়। ছবি: রয়টার্স
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট হিমবাহ ধস ও বিধ্বংসী পাহাড়ি ঢলে স্থবির হয়ে পড়েছে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শিল্প। দেশটির রাসুয়া জেলায় তিব্বতগামী কৌশলগত রুট ‘রাসুয়াগড়ি-তিমুরে’ এলাকায় আচমকা এই দুর্যোগে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ৬৪৪ জন কৈলাস মানস সরোবর তীর্থযাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন।
বুধবারের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মহামারি-পরবর্তী কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকা পর্যটননির্ভর নেপালের অর্থনীতির ওপর নতুন করে মারাত্মক আঘাত এনেছে।
পুলিশ ও উদ্ধারকারী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পবিত্র তিব্বতি পঞ্জিকা ‘ইয়ার অব দ্য হর্স’-এর সুযোগে শুরু হওয়া লাভজনক কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নেওয়া ১৭৮ জন ভারতীয়, ৫৫ জন আমেরিকান, ৫৩ জন ইউক্রেনীয় ও ১২৭ জন নেপালি নাগরিক রাসুয়ার দুর্গম এলাকায় আটকা পড়ে নিখোঁজ হন। পাহাড়ি ঢলের সাথে বিশাল কাদাস্রোত ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে প্রধান সংযোগ সড়ক, সেতু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। নেপালের পরিবেশবিশেষজ্ঞ বিজয় কুমার সিং বলেন, “আমাদের পর্যটন খাত মূলত পাহাড়ের ওপর নির্ভরশীল। পাহাড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঝুঁকিগুলো সঠিকভাবে নিরূপণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে দুর্যোগ এড়ানো যায়।”
তিনি আরও বলেন, “উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে এ দুর্যোগ একটি জোরাল প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।” বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৪২টি হিমবাহ হ্রদ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা যেকোনো সময় ফেটে গিয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে। ইতিপূর্বে বিমান দুর্ঘটনা, ২০২৪ সালের প্রাণঘাতী বন্যা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্থবিরতার মুখোমুখি হলেও নেপালের জিডিপিতে ৬.৬ শতাংশ অবদান রাখা এই খাত এবার জলবায়ুজনিত স্থায়ী ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকর্মীরা এক্সক্যাভেটর ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তারা মনে করছেন, পাহাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ ও নিখুঁত প্রযুক্তি ব্যবহারে জরুরি বিনিয়োগ না করা গেলে নেপালের আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজার পুনর্দখল করা দীর্ঘমেয়াদে কঠিন হয়ে পড়বে।
লেখা: সঙ্গম প্রসাই, দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
