মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অব্যাহত রাখার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক তেহরান সফর কোনো মার্কিন মধ্যস্থতার অংশ ছিল না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ।
সম্প্রতি পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ঐতিহাসিক ইরান সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শুরু হওয়া নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহমিনা জানজুয়া আন্দ্রাবি। তিনি জানান, সেনাপ্রধানের এই সফরটি একান্তই দ্বিপক্ষীয় সংহতি এবং আঞ্চলিক শান্তি কূটনীতির নিজস্ব কাঠামোর আওতায় আয়োজিত হয়েছে।
আন্দ্রাবি বলেন, “আন্দ্রাবি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন যে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত হিসেবে তেহরানে ভ্রমণ করেছিলেন এবং এই ধরনের জল্পনাকে ভুল বলে অভিহিত করেন।”
ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট উত্তরণে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আন্দ্রাবি উল্লেখ করেন, জেনারেল মুনির তেহরানে ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে এই সফর আঞ্চলিক সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে ইসলামাবাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার তুলে ধরছে।
ওয়াশিংটনের ক্রমাগত চাপ ও একতরফা অবরোধের মুখেও প্রতিবেশীদের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ধরে রাখতে চায় পাকিস্তান। এই বিষয়ে মুখপাত্র আরও বলেন, “পাকিস্তান তার ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ও অংশীদারদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এবং দেশের সমস্ত প্রচেষ্টা ইরান-মার্কিন অচলাবস্থা সমাধান এবং শান্তির-কূটনীতি এগিয়ে নেয়ার উপর কেন্দ্রীভূত।”
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক মধ্যস্থতার এই প্রয়াস দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিসমীকরণে নতুন মোড় এনে দিতে পারে।