কারাবন্দী পিতা ইমরান খানের স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ও আইনি বঞ্চনা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তাঁর দুই ছেলে সুলাইমান খান ও কাসিম খান। ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খানের স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি এবং দীর্ঘ নির্জন কারাবাসে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগে তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করেছেন লন্ডনে অবস্থানরত তাঁর দুই ছেলে সুলাইমান খান ও কাসিম খান। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে গত তিন বছর ধরে বন্দী ৭৩ বছর বয়সী এই নেতার ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ও তীব্র হৃদকম্পনের খবর পাওয়া সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে তাঁকে স্বাধীন হাসপাতালে স্থানান্তর না করায় সরকারের মানবিকতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
সর্বশেষ ঈদুল ফিতরে মাত্র ২০ মিনিটের ফোনালাপের পর থেকে প্রায় ছয় মাস ধরে বাবার কণ্ঠস্বর শুনতে পাননি সুলাইমান ও কাসিম। সম্প্রতি সাক্ষাৎ শেষে দুই ফুফু মারফত বাবার স্বাস্থ্যগত জটিলতার বিষয়টি জানতে পেরে লন্ডনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তাঁরা। কাসিম খান বলেন, “কাউকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসা নিতে না দেওয়ার মধ্যে মানবিকতা কোথায়? এগুলো অত্যন্ত নীচতা ও ক্ষুদ্র মানসিকতার নির্যাতনের কৌশল। তাঁকে ২৩ ঘণ্টা একটি নির্জন কক্ষে আটকে রাখা হচ্ছে, সন্তানদের সঙ্গে ফোনে কথা পর্যন্ত বলতে দেওয়া হচ্ছে না।”
সংকট ঘনীভূত হয় গত ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ ইমরান খানকে অবিলম্বে বেসরকারি শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তর এবং স্বজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের স্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করার পর। আদালত অবমাননা করে সরকার তাঁকে একটি সরকারি হাসপাতালে সংক্ষেপে পরীক্ষা করিয়ে দ্রুত পুনরায় কারাকক্ষে ফিরিয়ে নেয়। বড় ছেলে সুলাইমান খানের মতে, “এই সরকারি চিকিৎসকদের মূলত শিখিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের কী বলতে হবে। আমরা চাই স্বাধীনভাবে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হোক, যাতে আমাদের কাছে প্রমাণ থাকে। তারা কী লুকাচ্ছে?”
অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পরিবারের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ইমরান খানের অসুস্থতার দাবি কারাদলিলের সঙ্গে মেলে না এবং কারাবন্দী অবস্থায় তাঁর অন্তত ৩০ বার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যের বিষয়টি ব্যবহারের সমালোচনা করে সরকার দাবি করে, বর্তমানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পুরোপুরি ‘স্বভাবিক ও স্থিতিশীল’ রয়েছে।
জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও বিশ্বের ২১ জন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কের পাশাপাশি ইমরান খানের মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ বিষয়টিকে ‘মানবাধিকারের জরুরি অবস্থা’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থার ওপর ‘এস্টাবলিশমেন্টের’ প্রভাব থাকা সত্ত্বেও বাবার মানসিক শক্তির ওপর ভরসা রেখে কাসিম ও সুলাইমান আন্তর্জাতিক জনমত গঠন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
