× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বৈশ্বিক উষ্ণায়নে হিমালয়ে ভারসাম্যহীন পাথর-বরফ

তিব্বত-নেপাল সীমান্তে ধস ও বন্যায় প্রাণহানি ৩৫৯

ন্যশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

২৭ আগস্ট ২০২৬, ২২:৩৬ পিএম । আপডেটঃ ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:১৬ এএম

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হিমালয়ের ‘লাংটাং লিরুং’ চূড়া সংলগ্ন এলাকায় হিমবাহ ধসে প্রলয়ংকরী বন্যার পর উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন জরুরি সেবা কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বরফ ও পাথরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্ত উপত্যকায় এক প্রলয়ংকরী হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩৫৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপর্যয়ের পর থেকে অন্তত ৮০০ জন বিদেশি পর্যটকসহ প্রায় এক হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল বুধবার বিশাল এক হিমশিলা নদীর পানিতে আছড়ে পড়ার পর সৃষ্ট এই দুর্যোগের পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আন্তর্জাতিক সমুদ্র ও আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে নেপালের ‘লাংটাং লিরুং’ চূড়ার উত্তর ঢাল থেকে বিশাল এক হিমশিলা বিচ্ছিন্ন হয়ে তিব্বতের ‘লেন্দে খোলা’ নদীতে আছড়ে পড়ে। এতে ভাটিতে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়ে নেপাল-চীন সীমান্তের বাণিজ্যিক অবকাঠামো প্লাবিত করে। পর পর ঘটে যাওয়া এই ধারাবাহিক ধাক্কায় সীমান্তজুড়ে ৬টি প্রধান জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জিরং স্থলবন্দরের বাণিজ্য কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ভাটির প্রায় ১০০ কিলোমিটার নদীপথ সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে।

আর্থ সায়েন্সেস নিউজিল্যান্ডের ‘মাউন্টেনস টু সি’ কর্মসূচির প্রধান বিজ্ঞানী সাইমন কক্স বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উঁচু পর্বতের পাথর ও বরফের ভিত দিন দিন নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। খাড়া ঢালে বরফের বাঁধন দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি বাড়ে গলিত পানির প্রবাহ, যা পার্বত্য এলাকাকে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিব্বতের জিরং বা ভারতের সিকিমে ঘটা দুর্যোগগুলোর তুলনায় এবারের ধসের মাত্রা বহুগুণ বেশি। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (ইসিমোড) জ্যেষ্ঠ ক্রায়োস্ফিয়ার বিশেষজ্ঞ ফারুক আজম জানান, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমালয়ের বরফাবৃত অংশ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। অতিরিক্ত তুষার গলে যাওয়া ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ভূকম্পন একযোগে এই ভয়াবহ ধসের জন্ম দিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিগত মাত্র ৩০ বছরের ব্যবধানে নেপালের তুষারাবৃত পাহাড়গুলো তাদের মোট বরফের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষকদের মতে, এই সংকট কেবল একটি একক প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং বরফ গলে যাওয়া ও পাহাড়ের কাঠামোগত দুর্বলতার ফলে তৈরি হওয়া এক স্থায়ী জলবায়ু বিপর্যয়।

বিপর্যয়কবলিত পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে নিখোঁজদের উদ্ধারে চীন ও নেপালের যৌথ রেসকিউ টিম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে কার্যকর টেকসই পদক্ষেপ না নেওয়া গেলে আগামী দিনে হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের জনপদগুলোতে এমন প্রলয়ংকরী ঘটনার পুনরাবৃত্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।


তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.