ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের মিছিলে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। ২০ জুলাই ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
ভারতের রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ সামলাতে ও তাঁদের মন জয় করতে এবার সাঁড়াশি নীতি গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেবল জেন-জি নয়, আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই জেন আলফাকেও নিজেদের ভাবনায় যুক্ত করছে দলটি। সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে সম্প্রতি গঠিত ৬৫ সদস্যের জাতীয় কমিটির প্রথম বৈঠকেই নয়া প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগের এই রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশিত 'রোড ম্যাপ' অনুযায়ী, বিজেপি নেতাদের একতরফা ভাষণবাজির দিন শেষ করে নয়া প্রজন্মের মুখোমুখি বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, দলীয় নেতারা এখন থেকে তরুণদের প্রশ্ন করার সুযোগ দেবেন এবং তাঁদের দাবি ও অভিযোগের কথা শুনবেন। আরএসএস শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণদের মধ্যে কর্মসংস্থানহীনতা, উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে গভীর অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে, যা সরকারের প্রতি তাদের ভরসা কমিয়ে দিচ্ছে। সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতের পরামর্শে দলীয় পরিচালন নীতিতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
তবে এই নতুন কৌশলের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে ভুঁইফোড় সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র ব্যানারে গড়ে ওঠা দেশব্যাপী ছাত্র বিক্ষোভ ও কংগ্রেসের জোরালো উপস্থিতি। ১৫ আগস্ট থেকে সিজেপি শুরু করেছে 'স্কুল ঠিক করো' কর্মসূচি, যার মাধ্যমে সরকারি স্কুলগুলোর করুণ দশা তুলে ধরে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিজেপির কট্টরপন্থী অংশ এই কর্মসূচিকে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে দেখছে। ইতোমধ্যেই রাজস্থান, কলকাতা ও মহারাষ্ট্রে সিজেপি নেতাদের ওপর হামলা, আইনি বাধা প্রদান ও মামলা দায়েরের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর 'ছাত্র কি গুঞ্জ' কর্মসূচি ও সরাসরি প্রতিবাদের মুখে নতুন করে চাপে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল। গত ২০ জুলাই দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পুলিশের ছোড়া পেলেট গুলিতে ১৯ বছর বয়সী তরুণ সাহিল লোচাব চোখের দৃষ্টি হারান। দিল্লি পুলিশ এফআইআর নিতে অস্বীকৃতি জানালে রাহুল গান্ধী সাহিল ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে ধরনায় বসেন। সাড়ে ছয় ঘণ্টার এই ধরনার পর পুলিশ এফআইআর গ্রহণে বাধ্য হয়। সাবেক বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা ও শীর্ষ নেতা রবিশংকর প্রসাদ রাহুলের এই পদক্ষেপকে 'নৈরাজ্য সৃষ্টি' বলে কঠোর সমালোচনা করলেও, সাধারণ তরুণদের মাঝে এর প্রভাব ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বিজেপির এই জোড়া কৌশল—একদিকে সংলাপ ও অন্যদিকে দমননীতি—তরুণদের অসন্তোষ কতটুকু প্রশমিত করতে পারবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। সিজেপির অব্যাহত আন্দোলন এবং রাহুলের রাজনৈতিক তৎপরতা যদি নতুন প্রজন্মকে বিরোধী শিবিরের দিকে ধাবিত করে, তবে ২০২৯ সালের নির্বাচনে শাসকদলকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
