× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

‘টুইট বা রণতরী দিয়ে হরমুজ নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব’

যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান ইরানের

ন্যশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

১৫ আগস্ট ২০২৬, ২২:৫৭ পিএম । আপডেটঃ ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২২:৫৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে ডেভিড এস ম্যাক সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্সে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৪ আগস্ট ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ‘টুইট বা রণতরী দিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যাবে না’ মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, ইরানকে ‘অত্যন্ত নিকৃষ্ট’ রাষ্ট্র আখ্যা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে মার্কিন নাগরিকদের জ্বালানি তেলের এই বাড়তি দাম মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুদ্ধ অবসানে চলমান শান্তি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে উপনীত হওয়ার সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। একসময় বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হলেও, বর্তমান সংঘাতের জেরে এই জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত অচল হয়ে আছে।

শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক কড়া বার্তায় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, ‘এই প্রণালি ইরানের নির্দেশেই খোলা ও বন্ধ হবে। তাই যতক্ষণ না আপনারা পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন এবং অলীক কল্পনায় বিভোর থাকা বন্ধ করছেন, ততক্ষণ ইরান অবরোধ বলবৎ রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি টুইট বা বিমানবাহী রণতরী দিয়ে, কোনো আদেশ জারি করে কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতা দিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যায় না।’

তেহরানের এই অনড় অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কণ্ঠেও। শনিবার ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘শাহরারা নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই আলোচনা শুরুর কোনো সিদ্ধান্ত তেহরান নেয়নি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তাদের দেওয়া কিছু শর্ত মেনে নিতে হবে।

এদিকে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘পেট্রলের জন্য সামান্য একটু বেশি দাম দেওয়া সার্থক, যদি এর বিনিময়ে একটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট দেশ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।’

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্যমতে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনী প্রচারের সময় পেট্রলের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এখন দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা এই অর্থনৈতিক চাপকেই একটি বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতিও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ ও তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞাকেই দায়ী করেছেন। উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় এবং সহসা কোনো চুক্তির সম্ভাবনা না থাকায়, এই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


তথ্যসূত্র: রয়টার্স

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.