মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৯ জুলাই ২০২৬, মেরিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ লক্ষ্য করে ইরানের কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অত্যন্ত ‘বিশ্বাসযোগ্য’ ও সুনির্দিষ্ট হুমকি ছিল—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে গত ৮ জুলাই ট্রাম্পকে নিরাপদে বের করে আনতে ব্যবহৃত কৌশলটি কেবল এক অভিনব নাটকীয়তাই প্রকাশ করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়ার খবর সামনে এনে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর পর্যালোচিত ভিডিও ও গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে জানা গেছে, জনসমক্ষে দৃশ্যমানভাবে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার পর ট্রাম্পকে একটি ক্যাটারিং কনটেইনার ট্রাকের ভেতরে লুকিয়ে গোপনে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, সম্মেলন শেষে আঙ্কারায় ট্রাম্প ঠিক কোথায় এবং কোন তলায় অবস্থান করছেন, ইরানিরা তা নিখুঁতভাবে জানে এবং কাছেই কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ এক ব্যক্তির উপস্থিতি শনাক্ত করে মার্কিন গোয়েন্দারা। জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সমন্বয়ে দ্রুত এক বিভ্রান্তিকর বা ‘ডিকয়’ কৌশল সাজানো হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রাম্প গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ক্যামেরা উঁচিয়ে হাত নেড়ে ৭৪৭ এয়ারফোর্স ওয়ানের ভেতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু তিনি ভেতরে অদৃশ্য হওয়ার পরপরই বিমানে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি খাবার সরবরাহকারী ক্যাটারিং ট্রাক পিছিয়ে এনে ট্রাম্পকে গোপনে বের করে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সামরিক ‘সি-৩২এ’ বিমানে তুলে দেওয়া হয়।
সংবাদকর্মীদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে জানালার পর্দা নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রেসিডেন্টকে ছাড়াই ট্রাম্পের ‘ডিকয়’ বা ফাঁদ পাতা বিমানে সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, যোগাযোগের পরিচালক স্টিভেন চিউং ও ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারসহ একদল জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। আঙ্কারা থেকে ‘রিচ ১৮’ সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে ট্রান্সমিটার বন্ধ রেখা বোয়িং সি-৩২এ বিমানটি রাতে যুক্তরাজ্যের মিলডেনহল ঘাঁটিতে আগে অবতরণ করে। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে একটি গাড়িতে করে ট্রাম্পকে গোপনে আবার সেই পুরোনো বিমানে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং তিনি সাংবাদিকদের সামনে হেঁটে স্বাভাবিকভাবে নেমে পরবর্তীতে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে চেপে ওয়াশিংটনে ফেরেন।
কমান্ডার ইন চিফের জীবনের নিরাপত্তায় ঝুঁকিমুক্ত রাখার এই চরম কৌশল নিয়ে এখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার ওহাইও সফর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “এটি পুরোপুরি গোয়েন্দা সংস্থার ওপর নির্ভর করে। তারা যা করতে বলেছিল, আমি শুধু সেটাই মেনে চলেছি। নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা চেয়েছিল আমি যেন অন্য একটি ফ্লাইটে, অন্য একটি উড়োজাহাজে যাই।”
পেন্টাগন ও সিক্রেট সার্ভিস এই স্পর্শকাতর নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে কোনো দাপ্তরিক বিবৃতি না দিলেও, সংবাদকর্মীদের প্রাণের ঝুঁকি বাড়িয়ে এমন গোপন স্থানান্তরের ঘটনা মার্কিন সরকারের চরম গোয়েন্দা উদ্বেগ এবং তেহরানের সাথে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যক্তিগত সংঘাতের অস্থিতিশীল বাস্তবতাই সামনে এনেছে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
