যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট অ্যান্ড্রুস বিমানঘাঁটিতে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে নেমে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৯ আগস্ট ২০২৬, মেরিল্যান্ড। ছবি: রয়টার্স
ইস্তাম্বুলে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার 'বিশ্বাসযোগ্য' হুমকির মুখে তাঁকে রক্ষায় অত্যন্ত নাটকীয় ও নজিরবিহীন ছদ্মবেশ কৌশল গ্রহণ করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও পেন্টাগন। বিমানবন্দরে ক্যামেরা ও সাংবাদিকদের সামনে আইকনিক 'এয়ারফোর্স ওয়ান'-এ চড়লেও, পরবর্তী সময়ে গোপন কৌশল হিসেবে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত একটি ক্যাটারিং ট্রাকের কনটেইনারে লুকিয়ে তাকে বের করে আনা হয়। সেখান থেকে গোপনে একটি সামরিক বিমানে তুলে তাঁকে নিরাপদে ওয়াশিংটনে ফিরিয়ে আনার তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
তুর্কি বিমানবন্দর থেকে ট্রাম্পকে বহনকারী বোয়িং ৭৪৭ এয়ারফোর্স ওয়ানের ওপর ইরানি বাহিনীর কাধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরপরই তড়িঘড়ি এই গোপন ছক আঁকা হয়। জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সমন্বিত এই পরিকল্পনায় মূল এয়ারফোর্স ওয়ানে প্রেসিডেন্টকে না রেখেই সফরসঙ্গী, সিনিয়র কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের নিয়ে বিমানটি উড্ডয়ন করে। অপরদিকে, রণকৌশলের অংশ হিসেবে পেছনের ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে ট্রাম্পকে গোপনে রানওয়েতে পাশে থাকা সামরিক বিমান 'সি-৩২এ'-তে স্থানান্তর করা হয়, যা কোনো ফ্লাইট ডাটা সম্প্রচার না করে সম্পূর্ণ ট্র্যাকিং এড়িয়ে নিরাপদে যুক্তরাজ্যের মিলডেনহল ঘাঁটিতে গিয়ে পৌঁছায়।
যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিতে বিমান ল্যান্ড করার পর ট্রাম্পকে গাড়িযোগে গোপনে পুনরায় পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ফিরিয়ে আনা হয় এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে ওয়াশিংটনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নতুন বিমানে ওঠেন তিনি। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "এটি পুরোপুরি গোয়েন্দা সংস্থার সিদ্ধান্ত ছিল। তারা যা করতে বলেছিল, আমি শুধু সেটাই মেনে চলেছি। নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা চেয়েছিল আমি যেন অন্য একটি ফ্লাইটে, অন্য একটি উড়োজাহাজে যাই।"
গোয়েন্দা কৌশলটি সফল হলেও এই গোপন অভিযান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উড়োজাহাজে অবস্থানরত সাংবাদিক, হোয়াইট হাউসের কর্মী এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হামলার মূল নিশানা হিসেবে ব্যবহৃত বিমানটিতে থেকে যাওয়ায় তাঁদের জীবন চরম ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
