সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ। ফাইল ছবি: রয়টার্স
২০১১ সালে সিরিয়াজুড়ে গণ-অভ্যুত্থান দমনে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ ও ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে রাশিয়ায় নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালত। একই মামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান আতেফ নাজিবকেও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, ২০১১ সালে দারা প্রদেশে বাশার আল-আসাদ সরকারের নির্দেশে চালানো নৃশংসতা আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ডে স্পষ্টতই মানবতাবিরোধী অপরাধ। দীর্ঘ ১৩ বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আহমেদ আল-শারারের নেতৃত্বে বিদ্রোহী বাহিনী দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ নিলে পতন ঘটে আসাদের। বর্তমানে তিনি মস্কোয় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন, ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতেই এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হলো।
রায় প্রদানকালে আদালত বলেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নিজের জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে যে গণহত্যা ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তার জবাবদিহি এড়ানো সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ রায়ের মাধ্যমে সিরিয়ার সাবেক এই স্বৈরাচারী শাসকের সাড়ে পাঁচ দশকের পারিবারিক শাসনের অন্ধকার অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক বিচারিক সমাপ্তি ঘটল।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে হাফিজ আল-আসাদের হাত ধরে শুরু হওয়া রাজত্বের উত্তরাধিকারী হিসেবে ২০০০ সালে ক্ষমতায় আসেন বাশার আল-আসাদ। ২০১১ সালে 'আরব বসন্ত'-এর হাওয়ায় দেশজুড়ে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রকামী আন্দোলন নৃশংসভাবে দমনের পথ বেছে নেন তিনি। এর ফলে পুরো সিরিয়া এক বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধে নিপতিত হয়। রাশিয়া, ইরান ও হিজবুল্লাহর সরাসরি সামরিক সহায়তায় আসাদ এক যুগের বেশি সময় টিকলেও এই যুদ্ধে প্রাণ হারান ৬ লাখেরও বেশি মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হন ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাগরিক।
দীর্ঘদিন বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আসাদ টিকলেও ২০২৪ সালের শেষের দিকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার মনোযোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনার সুযোগে ওই বছরের ২৭ নভেম্বর 'হায়াত তাহরির আল-শাম' (এইচটিএস)-এর নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা নতুন করে অল আউট অভিযান শুরু করে। মাত্র চার দিনের মাথায় আলেপ্পো এবং পরবর্তীতে হামা ও হোমসের পতন ঘটলে ৮ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানী দামেস্ক মুক্ত হয় এবং আসাদ মস্কোয় পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
আজকের এই ঐতিহাসিক রায়কে সিরিয়ার বিচারব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং ভুক্তভোগী লাখ লাখ পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা। তবে বর্তমানে মস্কোর আশ্রয়ে থাকা আসাদকে সিরিয়ার নতুন সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে]
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
