× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

খাদ্যবর্জ্য থেকে তৈরি কম্পোস্টে মিলছে বিপজ্জনক মাইক্রোপ্লাস্টিক, ঝুঁকির মুখে কৃষিজমি: গবেষণা

ন্যশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৫৫ পিএম । আপডেটঃ ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৪১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে অবস্থিত ফ্র্যাঙ্ক আর বোয়ারম্যান ভাগাড়ে ভারী যন্ত্রের সাহায্যে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করছেন শ্রমিকেরা। ছবি: রয়টার্স

জলবায়ু সংকট মোকাবিলা ও পরিবেশ রক্ষায় খাদ্যবর্জ্য দিয়ে তৈরি করা প্রক্রিয়াজাত সার বা ‘কম্পোস্ট’ কৃষিজমিতে ব্যবহারের উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পেলেও, এতে দেখা দিয়েছে মারাত্মক নতুন ঝুঁকি। নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অপচয় হওয়া খাদ্যের প্লাস্টিক মোড়ক শতভাগ সরাতে না পারায় বর্জ্য থেকে প্রস্তুতকৃত সারে বিষাক্ত ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ থেকে যাচ্ছে, যা প্রয়োগের পর সরাসরি মিশে যাচ্ছে ফসলি জমিতে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী নেচার ফুড-এ প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের পরিবেশ বিজ্ঞানীদের জীবনচক্র বিশ্লেষণভিত্তিক এই গবেষণার বরাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রতিবেদনে পরিবেশগত এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গবেষকদের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে অপচয় হওয়া বিপুল পরিমাণ খাদ্যের বেশিরভাগই বাজারে বিক্রি হয় প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ে। যান্ত্রিক ডিপ্যাকার প্রযুক্তি ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে খাদ্য থেকে প্লাস্টিকের মোড়ক আলাদা করতে পারলেও বাকি ১ শতাংশ প্লাস্টিক সূক্ষ্ম কণা হিসেবে সারে থেকে যায়। এর ফলে খাদ্যবর্জ্যকে ভাগাড় থেকে সরিয়ে কম্পোস্ট বা সারে রূপান্তরের কারণে মাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ আগের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজমিতেই প্রতি বছর কম্পোস্টের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার টন বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা মাটির উর্বরতা নষ্টের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত মোট খাদ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই অপচয় হয়, যার সিংহভাগ ভাগাড়ে পচে বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ঘটায়। এই ক্ষতিকর গ্যাস কমানোর লক্ষ্যে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ নীতি বেশ জোরদার করা হলেও গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন—কার্বন নির্গমন কমানোর উদ্যোগে শুরু থেকেই প্লাস্টিক দূষণের বিষয়টি গুরুত্ব না দিলে এক পরিবেশগত সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে মানবজাতি অন্য এক দীর্ঘস্থায়ী বিপদের মুখোমুখি হবে।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং পরিবেশবিজ্ঞানী কেট পোর্টারফিল্ড বলেন, “পণ্য বা প্রক্রিয়ার কার্বন ফুটপ্রিন্ট হিসাব করার মতোই আমরা খাদ্যবর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে কার্বন নির্গমন মেপেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো মানুষ কিংবা যন্ত্র—কোনোটিই খাদ্যবর্জ্য থেকে প্লাস্টিক পুরোপুরি নিখুঁতভাবে আলাদা করতে পারে না। ফলে ভাগাড় থেকে বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়ার সময় প্রতিনিয়ত মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।”

বিশ্বজুড়ে কৃষিপণ্যের স্থায়িত্ব বাড়াতে অতিরিক্ত প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের ব্যবহার এবং সুপারমার্কেটগুলোর কেবল 'চোখে দেখতে নিখুঁত' কৃষিপণ্য বিক্রির মানসিকতাকেই খাদ্য অপচয় ও প্লাস্টিক দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে কোনো পণ্য আদৌ পুনর্ব্যবহারযোগ্য কি না নিশ্চিত না হয়ে ভুল বিনে ফেলে দেওয়ার অভ্যাসের কারণেও রিসাইক্লিং প্রযুক্তিগুলো অতিরিক্ত চাপে পড়ছে।

গবেষকদের অন্যতম সহলেখক ড. এরিক রয় জানান, পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রযুক্তিগত চেষ্টার পাশাপাশি মানুষকে পুরোনো ও টেকসই সবুজ অভ্যাসে ফিরে যেতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্লাস্টিক প্যাকেজিং কমিয়ে পাইকারি বা বাল্ক কেনাকাটার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বর্জ্য পৃথকীকরণে প্রতিটি পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকায় নামাই এই সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রধান পথ।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.