× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতা চূড়ান্ত করছে ইরান

ন্যশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

০৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:৫৭ এএম । আপডেটঃ ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৮ এএম

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত প্রবেশমুখ হরমুজ প্রণালি। ছবি: রয়টার্স

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন সাময়িক রুট নির্ধারণে প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে শনিবার জানিয়েছে ইরান। তবে তেহরান জানিয়েছে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার সঙ্গে ওমান সমঝোতার কোনো সম্পর্ক নেই, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তেহরানের রাজনৈতিক শর্তাবলি মেনে নেওয়ার ওপরই এর পুনর্সূচনা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তার জের ধরে তেহরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের মূল ধমনি, যা দিয়ে সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ (২০ শতাংশ) বাহিত হতো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, ওমানের সঙ্গে ইরানের এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ফের স্বাভাবিক জ্বালানি পরিবহন শুরু হতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের সেই ধারণাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে শনিবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনী তাদের কড়া বার্তা দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আমরা ওমানের সঙ্গে একটি নতুন রুট নিয়ে চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ আছি। তবে প্রণালিটি ফের খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভর করছে, যার মধ্যে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিপূরণ দেওয়া অন্যতম।"

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, প্রণালিটি দিয়ে পূর্বে অনুসৃত জাহাজ চলাচল পৃথকীকরণ ব্যবস্থা তেহরানের কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয়। একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক আইনি রূপরেখা প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত ওমানের সহায়তায় কেবল একটি অস্থায়ী নৌ-রুট চালুর বিষয়ে তারা আলোচনা এগিয়ে নিয়েছেন।

এদিকে ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তেহরানের অনড় সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

জেনারেল মোহেব্বি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "ইরানের হিসাব অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি শুধুই একটি অর্থনৈতিক জলপথ নয়। এটি আমাদের উচ্চমানের ভূরাজনৈতিক সক্ষমতা ও সামরিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। যখনই যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সমস্ত শর্ত মেনে নেবে, তখনই হরমুজ প্রণালি নিশ্চিতভাবে খুলে দেওয়া হবে।"

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সংঘাতপূর্ণ জলসীমায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক যানগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের প্রতিরোধ অভিযান জোরদার করেছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) অভিযোগ করেছে যে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির একটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং ট্যাংকারটির বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে। তেহরানের সরকারি গণমাধ্যম আমিরাতের এই সংবাদের সত্যতা উদ্ধৃত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও, আক্রমণের জন্য ইরানকে দায়ী করার অংশটি কৌশলগতভাবে এড়িয়ে গেছে এবং আইআরজিসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ওমানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী নৌ-রুট চালুর কূটনৈতিক চেষ্টা চললেও, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার শর্তের অনড় অবস্থান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ সচল করার পথকে চরম জটিল করে তুলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে যাচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.