ইয়েমেনের আল-জাওফ প্রদেশ থেকে সরকারি সামরিক ঘাঁটির অভিমুখে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য। ছবি: এক্স
ইয়েমেনের কৌশলগত হাধরামাউত ও মারিব প্রদেশের সরকারি সামরিক ক্যাম্পে হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ জন ইয়েমেনি সেনা নিহত এবং ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার আল-জাওফ প্রদেশ থেকে নিক্ষিপ্ত আটটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র জরুরি বাহিনীর পরিচালিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটিতে আঘাত হানলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গত চার বছরের আপেক্ষিক শান্তির পর দেশের গৃহযুদ্ধে এটিই সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা, যা সমগ্র আরব উপদ্বীপে নিরাপত্তা সংকট ও উত্তেজনা নতুন করে তীব্র করে তুলেছে।
ইয়েমেন সরকারের একাধিক সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মারিবের উত্তরে আল-জাওফ এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছুড়েছিল হুথিরা। হামলাগুলোর প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল হাধরামাউতের আল-থিনিয়া ও আল-আব্দ সামরিক ক্যাম্প এবং মারিবের আল-রুক এলাকা। ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী আক্রমণের বিষয়টি স্বীকার করে জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, আক্রমণের দায় স্বীকার করে হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারী এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, “আমাদের সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় প্রতিপক্ষের শত শত সদস্য হতাহত হয়েছে।”
পর পর ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনার ধারাবাহিকতায় ইরান-সমর্থিত হুথি এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যবর্তী দীর্ঘদিনের লড়াই আবারও চরম রূপ ধারণ করেছে। প্রায় এক মাস আগে সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান অবতরণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জবাবে গত ১৩ জুলাই ইয়েমেন সরকার সানা বিমানবন্দরে হামলা চালায় এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে হুথিরা সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে হামলা চালানোর চেষ্টা করে, যা আকাশে ধ্বংস করার দাবি করে রিয়াদ।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন গত ২০ জুলাই হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোতে ক্রমাগত আক্রমণ শুরু করে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথে এমন সময়ে হামলা শুরু হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে আরব উপদ্বীপের অপর প্রান্তে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও তেল রপ্তানি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হাধরামাউত ও মারিবের এই রক্তক্ষয়ী হামলার পরপরই ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ইয়েমেনের পশ্চিমে অবস্থিত হুথি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নতুন করে শক্তিশালী বিমান হামলা শুরু করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকে চলা দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ আবারও একটি সর্বাত্মক ও আঞ্চলিক সংকটের রূপ নিতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
