উত্তর কোরিয়ার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক শক্তি বাড়াতে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন শুরু করেছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, প্রায় ৯০ সদস্যের এই ইউনিটে ৬টি উৎক্ষেপণব্যবস্থা (লাঞ্চার) এবং ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে, যা দিয়ে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে মস্কো। একদিকে কিয়েভে সাম্প্রতিক বিধ্বংসী রুশ হামলায় অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি এবং অন্যদিকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তীব্র ঘাটতির মুখে উত্তর কোরিয়ার এই প্রত্যক্ষ সামরিক অংশীদারত্ব ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংকটকে আরও আশঙ্কাজনক করে তুলেছে।
ইউক্রেনের প্রধান গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (জিইউআর) কর্মকর্তা আন্দ্রি চেরনিয়াক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, উত্তর কোরিয়ার এই বিশেষ ইউনিটটিকে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় ভোরোনেজ অঞ্চলে মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে পিয়ংইয়ংয়ের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আসলেও, এবার সরাসরি উত্তর কোরীয় সামরিক ইউনিট মোতায়েনের মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক এক অভূতপূর্ব মাত্রা পেল। ইতোমধ্যে উত্তর কোরিয়া প্রায় ৪০টি কেএন-২৩ ও কেএন-২৪ মডেলের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ায় পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ।
কিয়েভের এই যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সহায়তা বিশ্ব সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক রব লি পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়ার এই সহায়তা ইউক্রেনের জন্য বড় হুমকি। কারণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করাটা এখন ইউক্রেনের অন্যতম বড় দুর্বলতা।”
সংকটের গভীরতা বাড়িয়ে গতকাল বুধবার কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় ফের বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলায় অন্তত ১৭ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। কিয়েভের হাতে বর্তমানে পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি থাকায় আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। সংকটময় এই পরিস্থিতিতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আকুল আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেন যুদ্ধের এই নতুন মোড় পশ্চিমা বিশ্বের জন্য এক বড় কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করল। রাশিয়ার ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ার সমরাস্ত্রের পাশাপাশি সরাসরি সেনা ও ইউনিট মোতায়েন নিশ্চিত হলে, ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
