ইরানের রাজধানী তেহরানের আজাদি স্কয়ারে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সম্বলিত বিতর্কিত বিলবোর্ড। ছবি: রয়টার্স
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার পেছনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইউক্রেন নীতিকে দায়ী করে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর ও বস্তুনিষ্ঠতাহীন। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক বিশেষ তথ্যানুসন্ধানে (ফ্যাক্ট চেক) উঠে এসেছে—পেন্টাগনের বর্তমান অস্ত্র-সংকটের সঙ্গে ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তার সরাসরি কোনো সংযোগ নেই। বরং ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক কৌশল এবং উচ্চমাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ছয় মাসে গড়িয়ে যাওয়া ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাণহানি, বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভয়াবহ ঘাটতি নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনমতও এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দায় এড়াতে ট্রাম্প দাবি করেন, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দেওয়ায় পেন্টাগনের মজুত খালি হয়ে গেছে। কিন্তু পেন্টাগনের নথি ও মার্কিন সমর বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বলছে ভিন্ন কথা।
"ইউক্রেনকে সরবরাহ করা সামরিক সরঞ্জামের সিংহভাগই ছিল পদাতিক ও স্থলযুদ্ধের উপযোগী—যেমন হাজার হাজার সাঁজোয়া যান, ট্যাংক বিধ্বংসী জ্যাভলিন ও টো ক্ষেপণাস্ত্র এবং কামানের গোলা। পক্ষান্তরে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধটি পরিচালিত হচ্ছে মূলত আকাশে। ফলে ইউক্রেনে পাঠানো অস্ত্র মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য অভিযানে কোনো ঘাটতি তৈরি করেনি।"
— মার্ক এফ কানসিয়ান, সাবেক মেরিন কোর কর্নেল ও সিএসআইএস-এর প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের বড় একটি অংশ নিঃশেষ করে ফেলেছে। সম্প্রতি ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২,৩৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১,২০০টি, ৩,০০০টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১,০০০টির বেশি এবং ৪,৪০০টি জেএএসএসএম ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১,১০০টিরও বেশি। এ ছাড়া থাড এবং এসএম-৬-এর মতো অতি সংবেদনশীল আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উদ্বেগজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। ইউক্রেনকে এই ক্যাটাগরির কোনো উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হয়নি।
অন্যদিকে, যুদ্ধকালীন তেলের বাজারের অস্থিতিশীলতা ও হতাহতের সংখ্যা নিয়েও ট্রাম্পের দাবি অতিরঞ্জিত। সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক দিনে ৮-৯ শতাংশ কমলেও যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির (ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার) তুলনায় তা এখনো প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি, সাবেক ট্রাম্প প্রশাসন ও পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের আমলের দীর্ঘমেয়াদি প্রাণহানির পরিসংখ্যানে কাটছাঁট করে বর্তমান ইরান যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর ঘটনাকে 'স্বাভাবিক' হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চলতি যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কা ও পেন্টাগনের এই অভূতপূর্ব গোলাবারুদ সংকট বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা এবং ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির ভবিষ্যৎকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
