বিহারের ঐতিহ্যবাহী বাঁকিপুর উপনির্বাচনে বিজেপির দীর্ঘদিনের দুর্গ ভেঙে ১৯ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হওয়ার পর সমর্থকদের সাথে বিজয় উৎসবে মেতেছেন জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর। ছবি: পিটিআই
সম্প্রতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া 'জেন-জি' আন্দোলনের পর ভারতের তিন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা উপনির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার (৪ আগস্ট) ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, বিজেপির অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত দুটি আসনে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে দলটিকে। এর মধ্যে বিহারের ঐতিহাসিক বাঁকিপুর আসনে জন সুরাজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর এবং মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনে কংগ্রেস প্রার্থী বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তবে গুজরাটের মাঞ্জলপুর আসনে নিজেদের আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি।
গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত এ উপনির্বাচনকে প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তরুণ সমাজ ও অভিভাবকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর প্রথম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, বিহারের বাঁকিপুর আসনে বিজেপির প্রার্থী নীরজ কুমারকে ১৯ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে চমক দেখিয়েছেন নির্বাচনী ভোটকুশলী থেকে রাজনীতিতে আসা প্রশান্ত কিশোর। ১৯৯৫ সাল থেকে টানা তিন দশক ধরে আসনটি বিজেপির দখলে ছিল এবং সম্প্রতি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন পদটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
অন্য দিকে, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনে বিজেপি প্রার্থী আশুতোষ তিওয়ারিকে ৬ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন কংগ্রেসের ঘনশ্যাম সিং। ২০২৩ সালের নির্বাচনে জয়ী কংগ্রেস নেতা রাজেন্দ্র ভারতী একটি জালিয়াতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে শূন্য ঘোষিত হওয়ায় আসনটিতে ভোটগ্রহণ করা হয়। তবে নরেন্দ্র মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাটের মাঞ্জলপুরে আসন ধরে রাখতে পেরেছে ক্ষমতাসীন দলটি। সেখানে বিজেপির সত্যেনদ্রেভাই প্যাটেল কংগ্রেসের ভিখাভাই রাবারিকে ৩০ হাজার ভোটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশ্নফাঁসবিরোধী জেন-জি আন্দোলন ও যুব অসন্তোষ নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। নীতিন নবীনের নিজ এলাকা ও বিজেপির নিশ্চিত দুর্গে প্রশান্ত কিশোরের প্রথম নির্বাচনেই এই বিপুল জয় কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও বিশেষ বার্তা দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, উপনির্বাচনে জয়ী সকল প্রতিনিধি নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই নিজ নিজ রাজ্য বিধানসভায় শপথ গ্রহণ করবেন। তবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য এ দুই গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরাজয় ভবিষ্যৎ রাজ্য নির্বাচনের কৌশল পুনর্মূল্যায়নের বড় তাগিদ দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
