× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইসরায়েলকে বাঁচাতে অস্ত্রসংকটে যুক্তরাষ্ট্র

ন্যশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

০৩ আগস্ট ২০২৬, ০০:৫৮ এএম । আপডেটঃ ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৫ এএম

জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। ছবি: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ভূমধ্যসাগরে মার্কিন সামরিক সম্পদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় পেন্টাগনকে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ডের (ইউকম) প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। তিনি জানিয়েছেন, সংঘাতের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের বৈশ্বিক সামরিক স্বার্থ এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সুরক্ষার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হতে পারে।

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট'-এ ১ আগস্ট প্রকাশিত এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে শীর্ষ পেন্টাগন সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরিত গ্রিনকেভিচের এই গোপনীয় বার্তার কথা তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, অবিলম্বে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অতিরিক্ত নৌ-ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন না করলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় সংকট তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘায়িত লড়াইয়ে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর নজিরবিহীন চাপ তৈরি করেছে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে জানানো হয়েছে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর পাঁচটি ডেস্ট্রয়ার বর্তমানে ইসরায়েলকে ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে 'এসএম-৩' ও 'এসএম-৬' প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আসছে। তবে দীর্ঘ পাঁচ মাসের টানা অভিযানে জাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সংকটের পাশাপাশি অত্যাধুনিক এই ইন্টারসেপ্টরগুলোর মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে এসেছে।

শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ বার্তায় উল্লেখ করেন, "ইসরায়েলের সুরক্ষায় বাড়তি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করার সোজা অর্থ হলো বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক কৌশলে ঘাটতি তৈরি করা। দীর্ঘায়িত এই সংঘাত সামরিক সম্পদের মারাত্মক অবক্ষয় ঘটাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজস্ব বাহিনীর প্রতিরক্ষা অথবা ইসরায়েল রক্ষা—এই দুটির একটি বেছে নেওয়ার কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।"

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ' (সিএসআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের সংগৃহীত থাড ও প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে চীনকে ঠেকানো এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত ভারসাম্য ধরে রাখার বৈশ্বিক সক্ষমতা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র যেভাবে দ্রুত ব্যবহৃত হচ্ছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে উৎপাদন বা পুনর্মজুত করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে একাধিক আঞ্চলিক সংকট একসাথে সামাল দিতে গিয়ে পেন্টাগন এখন সামরিক রিসোর্সের মারাত্মক সীমাবদ্ধতা ও ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।



তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.