× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সীমান্ত ভেঙে সেউতায় ঢুকলো ৫০ হাজার অভিবাসী, সেনা পাঠাল স্পেন

ন্যশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০১ পিএম । আপডেটঃ ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০২ পিএম

উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ভূখণ্ড সেউতায় নজিরবিহীন অনুপ্রবেশ ও প্রাণহানির পর মরক্কো সীমান্ত থেকে হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ফেরত পাঠাতে টহল জোরদার করেছে স্পেনের পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী। ছবি: রয়টার্স

উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ভূখণ্ড সেউতায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে অবিশ্বাস্যভাবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী সমুদ্র ও স্থলপথে অনুপ্রবেশ করার পর নজিরবিহীন মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই পুশ-ইন ও বিশৃঙ্খলার মুখে সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রম করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জন অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে স্প্যানিশ সরকার।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সেউতার এই আকস্মিক অনুপ্রবেশকে 'স্পেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর মারাত্মক আঘাত' বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইইউ ও দেশের অভ্যন্তরে প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে সীমান্ত সচল রেখে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, যার আওতায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ জন অভিবাসীকে পুনরায় মরক্কোতে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির পুলিশ ও সেনা সদস্যেরা।

প্রাথমিক তদন্তে মানব পাচারকারীদের ভুয়া গুজোব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণাকে এ ঘটনা ও প্রাণহানির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। তিনি বলেন, "মানব পাচারকারীচক্র গুজব ছড়িয়েছিল যে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সমুদ্রপথে আসা অনিয়মিত অভিবাসীদের অবিলম্বে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা হয়েছে। ওই বিভ্রান্তিকর খবরের ফাঁদে পড়েই হাজার হাজার মানুষ ৩ মাইল পথ সাঁতরে ও সমুদ্রবাঁধ টপকে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপের মাটিতে প্রবেশের চেষ্টা চালান।"

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মরক্কোর সাথে স্পেনের কৌশলগত সীমানা নিয়ন্ত্রণ নীতি ও সাম্প্রতিক আলজেরিয়া সফরের বৈরিতার টানাপোড়েনও এখানে পরোক্ষ নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। মরক্কোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিহীন কিন্তু ১৫৮০ সাল থেকে স্পেনের শাসনে থাকা সেউতা ও মেলিইয়ায় অতীতেও কূটনীতির টানাপোড়েনে নিরাপত্তা শিথিল করার নজির দেখা গেছে। তবে হঠাৎ করে এই ভূখণ্ডের স্বাভাবিক জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের সমান মানুষের একযোগে অনুপ্রবেশ নিরাপত্তা সংকটকে চূড়ান্তে নিয়ে গেছে।

এ ঘটনা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ উসকে দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্স তার স্প্যানিশ সীমান্তে কড়া নজরদারি শুরু করেছে এবং ইতালির কট্টর ডানপন্থী সরকার স্পেনকে শেনজেন মুক্ত চলাচল অঞ্চল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের দাবি তুলেছে। বৈশ্বিক তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ১ হাজার ৪৯৩ জন মারা গেলেও, সেউতার এই বিপর্যয় গোটা ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোর ভঙ্গুরতাকেই নতুন করে উন্মোচিত করল।



তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.