× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কূটনীতির মাঝেই উত্তেজনার ফাঁদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

ন্যশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

৩১ জুলাই ২০২৬, ২৩:০১ পিএম । আপডেটঃ ০১ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৭ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পারস্য উপসাগরে শক্তিমত্তা প্রদর্শন ও টহল জোরদার করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ। ছবি: সেন্টকম

কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত থামানোর জোর প্রচেষ্টার মুখেও মধ্যপ্রাচ্যে চরম রূপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক রক্তক্ষয়। কাতার, মিসর ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি চালুর নতুন প্রস্তাব সত্ত্বেও, দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র করেছে। ফলে সামুদ্রিক জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে সামরিক স্থাপনার সীমা পেরিয়ে হামলা এখন বেসামরিক অবকাঠামোতেও আঘাত হানছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ জোরদার করেছে। জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গত সোমবার মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তেহরান আলোচনা বিবেচনা করলেও তাদের সামরিক জবাব অব্যাহত থাকবে। ওমানের মাসকাটে স্থগিত হয়ে যাওয়া বৈঠকের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রস্তাবে ১০ দিনের সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা এবং হরমুজ প্রণালির উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় নৌপথ খুলে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সাইমন ম্যাবন বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি বিপজ্জনক ‘উত্তেজনার ফাঁদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "পূর্ববর্তী অস্পষ্ট সমঝোতার সুযোগে উভয় পক্ষই শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। সম্প্রতি তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর যেমন প্রতিশোধের তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি ইরানও হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের কৌশলগত কর্তৃত্ব ছাড়তে নারাজ।"

অন্য সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন হামলা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল পার হয়ে গভীরে ছড়িয়ে পড়লেও মূল সামরিক মনোযোগ এখনো হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করেই ঘুরপাক খাচ্ছে। যা নির্দেশ করে ওয়াশিংটন যুদ্ধকে একটি সীমানার মধ্যে ধরে রাখতে চায়। তবে হামলায় বেসামরিক স্থাপনা—যেমন ইরানের রেলওয়ে ও পানি শোধনাগার এবং কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের সহ-সভাপতি ত্রিতা পারসি বলেন, "মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় তেহরানের সমঝোতার টেবিলে ফেরার সম্ভাবনা নগণ্য। টেকসই কূটনীতির জন্য সামরিক অভিযান পুরোপুরি থামানো ছাড়া বিকল্প নেই।"

এদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বন্দরগুলোতে সামুদ্রিক অবরোধের হুমকি দেওয়ায় সংঘাত লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও তেলের বাজার অভাবনীয় বিপর্যয়ের মুখে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গবেষকদের আশঙ্কা, মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের নীতিগত নমনীয়তা না এলে আঞ্চলিক ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।


তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.