উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তপ্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে তিন বছর আগে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে কুয়েত। গত রবিবার (২৬ জুলাই) দেশটির সরকারি গেজেট 'কুয়েত আল-ইয়ুম'-এ প্রকাশের মাধ্যমে কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী এই সামরিক চুক্তিটি কার্যকর হয়। মূলত ২০২৩ সালের জুনে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া এ চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকাঠামোয় উভয় রাষ্ট্রের কৌশলগত অংশগ্রহণ ও সামরিক সখ্যতা আরও সুদৃঢ় হলো।
পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় কুয়েত ও পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, উচ্চতর শিক্ষা, সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রসদ ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষাপ্রযুক্তি, যৌথ গবেষণা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা, সামরিক গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমেও উভয় দেশের যৌথ অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
কুয়েত সরকারের এক কর্মকর্তা গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জানান, "দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ সামরিক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি প্রতি বছর যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণ, সরকারি সফর এবং সার্বিক সহযোগিতামূলক কর্মসূচির তদারকি ও আয়োজন করবে।"
গেজেটে উল্লেখ করা হয়, চুক্তিটি প্রাথমিক মেয়াদ শেষে কোনো পক্ষ আপত্তি না জানালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। একই সঙ্গে উভয় দেশ সংবেদনশীল ও গোপন সামরিক তথ্যের সর্বোচ্চ সুরক্ষা বিধান এবং যেকোনো কূটনৈতিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিতে একমত হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কুয়েত ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের দফায় দফায় বৈঠকের পরই চুক্তিটির পূর্ণ অনুমোদন এল। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম সামরিক উত্তেজনার জেরে কুয়েতের আকাশসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে, যা কুয়েত সশস্ত্র বাহিনী প্রতিহত করে। উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও বহুমুখী করার অংশ হিসেবেই ইসলামাবাদের সঙ্গে এই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত জোট জোরদার করল কুয়েত।
তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড