ভারতে 'নিট' পরীক্ষা বাতিল ও বেকারত্বের প্রতিবাদে রাজপথে নামা হাজার হাজার ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিবিসি
ভারতে টানা এক সপ্তাহের উত্তাল ছাত্র আন্দোলন ও অভূতপূর্ব প্রতিবাদের মুখে পদত্যাগ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত 'নিট' মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসা ক্ষুব্ধ তরুণদের দাবির মুখে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদীর সরকার। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ১২ বছরের দীর্ঘ শাসনামলে জনদাবির মুখে কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সরে দাঁড়ানোর ঘটনা এটিই প্রথম, যাকে তরুণ প্রজন্ম তাদের ঐতিহাসিক জয় হিসেবে দেখছে।
গত মে মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং পরীক্ষা বাতিলের পর মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। এরপরই 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) নামের এক ব্যঙ্গাত্মক ছাত্র প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে দিল্লির রাজপথে অবস্থান ধর্মঘট শুরু হয়। পরবর্তীতে পুলিশ অনশনরত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করলে এবং ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে ১০ হাজার শিক্ষার্থীর পদযাত্রায় টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালালে এই আন্দোলন পুরো দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
সরকার দমন-পীড়ন চালিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে 'ইনস্টাগ্রাম'-কে হাতিয়ার করে তরুণেরা পুলিশি নির্যাতনের বাস্তবচিত্র সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে। মূলধারার গণমাধ্যম ও অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও তরুণদের উদ্ভাবনী রিলস ও পোস্টের মাধ্যমে প্রতিবাদের আগুন দ্রুত দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে মুম্বাই, পাটনা ও গুয়াহাটি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
আন্দোলনের এই অর্জনকে কেবল সূচনা হিসেবে দেখছেন উদীয়মান ছাত্র নেতারা। মুম্বাইয়ের এক তরুণ বলেন, "এটি কোনো শেষ নয়, স্রেফ শুরু। আমাদের এই প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জীবনে প্রথমবার রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু কথা বলার মতো আরও বহু বড় সংকট সামনে রয়ে গেছে আর আমরা সেগুলো নিয়ে কথা বলবই। পড়াশোনা শেষ করলেও চাকরি মিলছে না—এই পুরো ব্যবস্থা নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক দেশে সরকারের কাছে তো জবাবদিহিতা চাইতেই হবে।"
বিশাল যুব জনসংখ্যার দেশ ভারতে গত জুনে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ২ শতাংশে। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষা শেষ করেও ৭ শতাংশের কম তরুণ স্থায়ী বেতনের চাকরি পাচ্ছেন। সামাজিক এই বৈষম্য এবং স্বপ্নভঙ্গের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই মূলত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর আন্দোলনকে এখন মোদী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে পরিচালিত করছে।
তবে বিজয়ের উল্টো পিঠে রয়েছে গভীর প্রশাসনিক শঙ্কা ও আইনি নিপীড়নের উদ্বেগ। ইতোমধ্যে ১০০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে এবং অন্তত ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, বিক্ষোভকারীদের বার্তা—দমন-পীড়ন চালিয়ে আর তাদের ক্ষোভ দমিয়ে রাখা যাবে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
