ভারতে এক মুসলিম দম্পতিকে ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ আখ্যা দিয়ে রাস্তায় পথরোধ, শ্লীলতাহানি ও নির্মম মারধরের অভিযোগে বেঙ্গালুরু থেকে ড. নাগেন্দ্রপ্পা নামের এক চিকিৎসককে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও আটকের ২৪ ঘণ্টার মাথায় আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। গত বুধবার সকালে বেঙ্গালুরু শহরের রাস্তায় নাসরিনা (২৩) ও তাঁর স্বামী মোহাম্মদ বিলালকে প্রকাশ্যে আক্রমণের পর বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় বেলান্দুর থানা পুলিশ। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আক্রান্ত দম্পতির বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসনের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ ও পুলিশি সূত্র অনুযায়ী, বেঙ্গালুরু নগরের একটি স্থানীয় ক্লিনিকের পরিচালক ড. নাগেন্দ্রপ্পা গত বুধবার সকালে হঠাৎ নাসরিনা ও তাঁর স্বামী বিলালের পথ আটকান। এরপর ওই দম্পতির জাতীয়তা নিয়ে কটু কথা বলে প্রথমে নাসরিনাকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। পরবর্তীতে বিলাল বাধা দিলে চিকিৎসক তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মাথা ও পিঠে সজোরে আঘাত করে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি লাথি মারেন এবং ঘটনাটি জানালে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
আটক হওয়ার ঠিক আগে অভিযুক্ত ড. নাগেন্দ্রপ্পা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন, যেখানে তাঁকে ওই দম্পতিকে বাংলাদেশ থেকে অন্যায়ভাবে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে ভুক্তভোগী যুবক বিলালকে স্থানীয় কান্নাড়া ভাষায় সাবলীলভাবে বলতে দেখা যায় যে, তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পরিবারসহ বেঙ্গালুরুতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন; তা সত্ত্বেও ভিডিওর শেষভাগে চিকিৎসককে ওই যুবকের মুখে থাপ্পড় মারতে দেখা যায়।
বেঙ্গালুরু বেলান্দুর থানা পুলিশ তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, "আক্রান্ত দম্পতির জাতীয়তা বা অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো তথ্য প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মারধর, নারীর শ্লীলতাহানি, পথরোধ ও অপরাধমূলক হুমকির সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে।"
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত ড. নাগেন্দ্রপ্পাকে গ্রেপ্তার করলেও শুক্রবারই স্থানীয় আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পান তিনি। ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রভাবে সংখ্যালঘু ও বাংলাভাষীদের অনাহুত হেনস্তার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এই ঘটনা তা নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।