× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভ্যান্স-কেইনের বাধা, ইরানে বোমাবর্ষণ থামালেন ট্রাম্প

ন্যশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫ এএম । আপডেটঃ ২৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৬ এএম

কুয়েতে নিহত ছয় মার্কিন সেনার মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সামরিক প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন। ছবি: রয়টার্স

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের তীব্র উদ্বেগের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তোলার অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন। টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে ইরানের ভেতরে দফায় দফায় বোমাবর্ষণের পর পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানটি বর্তমানে 'স্থগিত' রয়েছে। পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের দায়িত্বশীল সূত্র উদ্ধৃত করে সিএনএন জানিয়েছে, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিদ্যমান গোলাবারুদের ঘাটতি ও সম্ভাব্য মারাত্মক বেসামরিক প্রাণহানির ভয়াবহ পরিণতির চিত্র তুলে ধরে সামরিক ও রাজনৈতিক উপদেষ্টারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেন।

বৈঠকে সামরিক প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন ট্রাম্পকে জানান, প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দিলে সেনাবাহিনী হামলা চালাতে সক্ষম হলেও এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সামলানো কঠিন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া, ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস হলে কোটি কোটি মানুষের বিদ্যুৎ ও খাদ্য সংকটে পড়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি কাঠামোর ওপর চরম আঘাতের আশঙ্কার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি শোধন কেন্দ্রগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলা এবং ইউক্রেন ও হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে মার্কিন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট দেখা দেওয়াকে অভিযান থামানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া অধিকাংশ উপদেষ্টা ট্রাম্পকে বলেন, ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো সম্ভব হলেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই এ যুদ্ধকে দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে পরিস্থিতিকে কিছুটা স্বাভাবিক রূপ দিতে কৌশলগত কূটনীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।


"প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময়ই একটি সংঘাতহীন কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বা আমাদের আন্তর্জাতিক মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব ধরণের পদক্ষেপের পথ খোলা থাকবে।"
— স্টিভেন চেং, যোগাযোগ পরিচালক, হোয়াইট হাউস।


পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল মার্কিন বাহিনীর সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলে দাবি করলেও জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস স্বীকার করেছেন, মিত্রদের অস্ত্র সহায়তা দিতে গিয়ে তাদের অস্ত্রের মজুত একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি স্থল সেনা না পাঠিয়ে কেবল বিমান বা দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করা যে প্রায় অসম্ভব—তা অনুধাবন করেই ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত সংযমের পথ বেছে নিয়েছে। স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের গতিবিধি ও মার্কিন কৌশলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.