ভারতে ঐতিহাসিক জেন-জি আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর নজিরবিহীন পদত্যাগের পর পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন নয়া দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: রয়টার্স
ভারতে বিতর্কিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা 'নিট-ইউজি'র প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা খাতে দুর্নীতির প্রতিবাদে জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের পরিচালিত আন্দোলন এক ঐতিহাসিক সফলতা অর্জন করেছে। আন্দোলন শুরুর প্রায় পাঁচ সপ্তাহের মাথায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নজিরবিহীন পদত্যাগের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের অন্যতম প্রধান দাবি আদায় করে নিয়েছে। টানা ১২ বছর ধরে ভারতের ক্ষমতায় থাকা নরেন্দ্র মোদির বলীয়ান রাজনৈতিক যাত্রায় এই ঘটনাকে বিরল এক প্রশাসনিক ও কৌশলগত পিছু হঠা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে গড়ে ওঠা ডিজিটাল আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ মূলত ভারতে শিক্ষা সংক্রান্ত হতাশা, উচ্চ বেকারত্ব এবং এআই প্রযুক্তির প্রভাবে কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কায় ভোগা তরুণদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। গত ২০ জুলাই দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়ন ও টিয়ার গ্যাস প্রয়োগের পর এই বিক্ষোভ দ্রুত পশ্চিমবঙ্গ, বিহারসহ পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র কয়েক দিনে আড়াই কোটিরও বেশি তরুণ ইনস্টাগ্রামে সিজেপির পতাকাতলে একতাবদ্ধ হন, যার রাজনৈতিক চাপ সামলাতে বাধ্য হয় মোদি সরকার।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিরল ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তরুণদের আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাতে আন্দোলনের তেজ কমেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন হিন্দুত্ববাদ বা ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিতে মোদির পেছনে থাকা ভারতের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী (যাদের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে) এবার নিজেদের ভবিষ্যৎ ও অধিকারের ইস্যুতে সরাসরি সরকারের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমিতাভ তিওয়ারি বলেন, "প্রশ্নপত্র ফাঁস ছিল এই ক্ষোভের একটি তাৎক্ষণিক উদ্দীপক মাত্র। মূল বিষয় হলো ভারতীয় তরুণদের মধ্যে জমা হওয়া গভীর উদ্বেগ, অস্থিরতা, হতাশা ও তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ। এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে কেবল রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে তরুণদের ধরে রাখা সম্ভব নয়।"
এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় শ্রীবাস্তব উল্লেখ করেছেন, অতীতে ভারতের যেকোনো আন্দোলন মোদিবিরোধী শক্তি বা বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এই প্রথম মোদির নিজস্ব তরুণ সমর্থকদের একটি বিশাল অংশ প্রকাশ্যেই সরকারের নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। লেখক ও বিশ্লেষক অনুরাগ ভার্মার মতে, বিজেপির প্রথাগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জেন-জি প্রজন্ম ইনস্টাগ্রামের মতো নিজস্ব ভাবমূর্তির প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ক্ষমতার জানান দিয়েছে।
আসন্ন ২০২৭ সালে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল ও বিজেপিশাসিত রাজ্য উত্তর প্রদেশ, গুজরাট এবং পাঞ্জাবের বিধানসভা নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সিজেপির মতো জেন-জি নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্ম বা কোনো তরুণ রাজনৈতিক শক্তির উত্থান যদি সামনের দিনে ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলে, তবে তা ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
