× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ছাত্র নির্যাতনের প্রতিবাদে উত্তাল ভারত

অনড় শিক্ষার্থীরা

ন্যশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:২২ এএম । আপডেটঃ ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৪ এএম

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের মহাসমাবেশ ও মানবঢাল। ছবি: রয়টার্স

গত এক দশকে একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে গতকাল বুধবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বৃষ্টি উপেক্ষা করে অবস্থান গ্রহণ করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোও একাত্মতা প্রকাশ করায় এবং সংসদের উভয় কক্ষে বিরোধীদের প্রচণ্ড হট্টগোলের কারণে টানা তৃতীয় দিনের মতো অচল হয়ে পড়ে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন। আন্দোলনের পরিধি এখন গোটা ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে। যা কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

শিক্ষার্থীকৈন্দিক এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে নজিরবিহীন স্বতঃস্ফূর্ত জনসমর্থন দেখা গেছে। আন্দোলন স্তব্ধ করতে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং খাবার ও পানীয় প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করলেও, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী স্বতঃস্ফূর্তভাবে খাদ্য-পানীয় নিয়ে এগিয়ে আসেন। অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও খাবার পাঠানো হয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জানান, এটি আন্দোলনের কেবল একটি 'ট্রেলার' এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন স্থান ছাড়বেন না তারা।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। পুলিশকে ভর্ৎসনা করে আদালত সব ধরনের সিসিটিভি ফুটেজ ও নথিপত্র অক্ষত রাখার নির্দেশ দিয়ে মন্তব্য করেন, "শিক্ষার্থীদের ওপর এই অত্যাচার গোটা দেশের বিবেক নাড়িয়ে দিয়েছে। আপনারা কী করে দাবি করেন যে এসব সভার প্রচারমাত্র?"

কংগ্রেসসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো আন্দোলনকারীদের দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়ে মঙ্গলবার থেকেই নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে এবং সংসদ ভবন চত্বরে কালো পোশাক পরে বিক্ষোভ শুরু করেছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবিকে যুক্তিসঙ্গত হিসেবে আখ্যা দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, "গত এক দশকে ১৫৪টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও একজন অপরাধীকেও শাস্তি দেওয়া হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য; ছাত্রসমাজ তাঁর অপসারণ চায় এবং এই দাবি সম্পূর্ণ ন্যায্য। কংগ্রেস আন্দোলনকারীদের সব দাবির পাশে রয়েছে।"

তিনি ছাড়াও এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ারসহ শীর্ষ বিরোধী নেতৃবৃন্দ আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানান।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনকারী প্রতিনিধি সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-কে মন্ত্রীর বাসভবনে আলোচনার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষার্থীরা সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আলোচনা হতে হবে যন্তর মন্তরে কিংবা কোনো নিরপেক্ষ স্থানে এবং তা হতে হবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের শর্ত মেনে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আন্দোলনকারীদের এ দাবিকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে অভিহিত করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, সরকারকে অস্থিতিশীল করতে এর পেছনে 'বিদেশি চক্রান্ত' এবং বিরোধী চক্রান্ত জড়িত রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের যন্তর মন্তরে আসা ঠেকাতে মেট্রো কর্তৃপক্ষ রাজধানীর অন্তত ১৬টি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখলে সাধারণ যাত্রীদের ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পড়ে প্রশাসন। আন্দোলন এখন দিল্লি ছাড়িয়ে গুজরাটের আহমেদাবাদ, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ছে। অনশনরত পরিবেশকর্মী ও সমাজসংস্কারক সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্র ও আন্দোলনকারীদের অবস্থান অনড় থাকায় অদূর ভবিষ্যতে এই রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তাপ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.