শ্রীলঙ্কার একটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সংরক্ষিত বিশেষ ওয়ার্ডের তথ্য আপডেট করছেন দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী। ছবি: রয়টার্স
প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সংক্রামক এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু এবং ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামরিক ড্রোন মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়াকের সরাসরি নির্দেশে মশার প্রজননক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ ও ধ্বংস করতে সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ কমিটি। রাজধানী কলম্বোসহ দেশজুড়ে রোগটির অতিসংক্রামক ‘ডিইএনভি-২’ স্ট্রেন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
২০১৭ সালের ভয়াবহ মহামারির পুনরাবৃত্তি এড়াতে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি সশস্ত্র বাহিনীর কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে; সে বছর ১ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪৫০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
বর্তমানে মৌসুমি বৃষ্টির জমে থাকা পানি ও উঁচু ভবনের ছাদে মশার বংশবৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করতে শ্রীলঙ্কান বিমানবাহিনীর বিশেষ সামরিক ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা যৌথভাবে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নির্মাণাধীন স্থাপনায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন।
জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কায় আঘাত হানা বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’-এর ধ্বংসাবশেষের কারণে পানি জমে মশার প্রজনন বহুগুণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও স্থানীয় অর্থনৈতিক মন্দা। যা দেশটির স্বাস্থ্য খাতের সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই ১৮ হাজারের বেশি নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে তীব্র শয্যাসঙ্কট দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত শয্যা স্থাপন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ড চালু এবং চিকিৎসকদের ডিউটির সময় বাড়ানো হয়েছে। শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, "হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃদু উপসর্গ থাকা রোগীদের বাড়িতে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।"
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ইতিমধ্যে মশার ১১ হাজারের বেশি প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করেছে এবং অবহেলার দায়ে চার হাজারের বেশি স্থাপনামালিককে জরিমানার আওতায় এনেছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডেঙ্গু টিকার জরুরি ব্যবহারের সম্ভাব্যতাও যাচাই করছে কলম্বো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগস্টের দিকে মৌসুমি বৃষ্টি কমলে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে, তবে নভেম্বরে পুনরায় বৃষ্টি শুরু হলে প্রাদুর্ভাব নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নিলে লঙ্কান জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
