পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং।
অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করল পাকিস্তান। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইসলামাবাদে আয়োজিত ‘পাকিস্তান-চীন বিজনেস-টু-বিজনেস (বি-টু-বি) ফার্মাসিউটিক্যাল, স্বাস্থ্যসেবা ও বায়োটেকনোলজি সম্মেলনে’ দুই দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে দেশটিতে কর্মরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ‘কোনো ধরনের প্রচেষ্টারই কমতি রাখবে না’ বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, পাকিস্তানে অবস্থানরত আমাদের চীনা ভাই-বোনদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কোনো প্রচেষ্টাই বাদ দেব না।”
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে চীনা প্রকৌশলী ও নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ২০২২ সালে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেওয়ার পর খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তিগুলো শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বাস্তবায়নের মাধ্যমে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি)-এর দ্বিতীয় ধাপের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে। তিনি বলেন, “দুই দেশের বন্ধুত্ব হিমালয়ের চেয়েও উঁচু, মধুর চেয়েও মিষ্টি এবং ইস্পাতের চেয়েও শক্তিশালী।”
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনে পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত, দুই দেশের ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চুক্তিগুলোর আওতায় স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদন, বায়োটেকনোলজি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং হেপাটাইটিস প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় সুরক্ষামূলক টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতার বিষয়েও একটি পৃথক সমঝোতা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
শেহবাজ শরিফ বলেন, সিপিইসি ১.০-এর আওতায় ইতিমধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। তবে চলমান এই উন্নয়নযাত্রার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা সংকট। ২০২১ সালে দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এবং ২০২৪ সালের মার্চে বেসহাম ও করাচি বিমানবন্দরের কাছে পৃথক আত্মঘাতী হামলায় বেশ কয়েকজন চীনা প্রকৌশলী নিহত হওয়ার পর বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে চাপ বাড়ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বেলুচিস্তানের সাইন্দাক তামা ও স্বর্ণখনি প্রকল্পের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। খনিটি চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত মেটালার্জিক্যাল করপোরেশন অব চায়না (এমসিসি) পরিচালনা করছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, “পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর পরিচালিত সব প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।” অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দেশটিতে চীনা নাগরিক, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে।
তথ্যসূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
