মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস রাজ্যের উপকূলে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই) আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূকম্পনের পর মেক্সিকো ও গুয়াতেমালার উপকূলীয় অঞ্চলে বিপজ্জনক সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তীব্র এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫ দশমিক ২ কিলোমিটার গভীরে। যার প্রাবল্যে প্রতিবেশী দেশ গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনগুলো কেঁপে ওঠে।
ভূমিকম্পের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ৩০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে বিপজ্জনক সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। মেক্সিকো ও গুয়াতেমালার কিছু উপকূলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে শূন্য দশমিক ৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ তৈরি হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে। তবে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা নাকচ করে মেক্সিকোর নৌবাহিনী প্রধান রায়মুন্দো মোরালেস জনগণকে আপাতত সমুদ্রসৈকত থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
নৌবাহিনী প্রধান রায়মুন্দো মোরালেস বলেন, “আপাতত বড় কোনো সমস্যা বা সামুদ্রিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই। ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির কারণে কিছু সমুদ্রসৈকতে পানির উচ্চতা বড়জোর আধা মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ দশমিক ৪ এবং এর গভীরতা ১০ কিলোমিটার বলে জানিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তারা বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ ও সংশোধন করে নতুন এই চূড়ান্ত হিসাব দেয়। মূল ভূমিকম্পের ধাক্কা কাটার পরও মেক্সিকো, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদরে বেশ কয়েকটি মৃদু ও মাঝারি মাত্রার পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে। যার কয়েকটির তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৫ থেকে ৬ মাত্রার মধ্যে ছিল।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দেশ থেকেই এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো হতাহত কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতার কারণে স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।