উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করে অবস্থানকাল চার বছর নির্দিষ্ট করে দিল মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। ছবি: রয়টার্স
ভিসা জালিয়াতি রোধ ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের অজুহাতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই নিয়মের আওতায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী চার বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই ঘোষণা দিয়ে জানায়, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে দেশটিতে এই নতুন অভিবাসন বিধি কার্যকর হতে যাচ্ছে।
নতুন এই নির্দেশনার ফলে এতদিন ধরে চলে আসা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতি বাতিল হচ্ছে। যার অধীনে এফ-১ এবং জে-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধভাবে থাকার সুযোগ পেতেন। এখন থেকে শুধু নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়াই নয়। বরং একাডেমিক প্রোগ্রাম বদল এবং এক বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সুযোগও মারাত্মকভাবে সীমিত করা হবে। এতদিন যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারত। এখন সেই প্রশাসনিক ক্ষমতা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেল।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, “দশকের পর দশক বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাজারও মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে একের পর এক কোর্সে ভর্তি হয়ে আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে।”
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিকে উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য বড় ধাক্কা ও চরম বৈষম্যমূলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক শেষ করতে সাধারণত চার বছর লাগলেও পিএইচডি বা উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় প্রয়োজন হয়, যেখানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে অধ্যায়নরত। নতুন এই নিয়মের ফলে পড়াশোনা সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেশত্যাগ কিংবা অন্য কোনো ভিসায় রূপান্তরের জন্য গ্রেস পিরিয়ড ৬০ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসা অলাভজনক সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ (নাফসা) সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তীব্র সমালোচনা করে একে ‘ভুল ও অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
কঠোর এই নীতিমালার ফলে বৈশ্বিক মেধার আকর্ষণে শীর্ষস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী দিনে বড় ধরনের শিক্ষার্থী সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী উচ্চতর গবেষণা এবং পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হতে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের মনে এই নতুন সময়সীমা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা গভীর অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
