আঞ্চলিক যুদ্ধ ও চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা রেকর্ড তিন গুণ বৃদ্ধি করেছে ইরান। প্রতিরক্ষা খাতে দেশটির আধুনিক প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত বিনিয়োগের ফলেই এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে আল-রেজা। পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং একের পর এক আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও তেহরান যেভাবে সামরিক প্রযুক্তিতে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে, এই পদক্ষেপকে তারই একটি বড় শক্তির মহড়া হিসেবে দেখছেন বৈশ্বিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’-এর বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি দেশটির প্রতিরক্ষা খাতের অগ্রগতি ও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, যুদ্ধের তীব্র সংকটের মধ্যেও দেশের ভেতরের উৎপাদন শৃঙ্খল সম্পূর্ণ সচল ছিল এবং ড্রোন বিভাগের উৎপাদন আগের তুলনায় বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে আল-রেজা বলেন, "সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে যে ইরানের দক্ষ জনশক্তি (এলিট) এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যুদ্ধের চরম মুহূর্তে যখন চারদিকে সংকট, তখন আমাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেবল সচলই ছিল না, বরং আমরা ড্রোন তৈরির সক্ষমতা তিনগুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছি।"
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও মার্কিন-ইসরায়েল বলয়ের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রয়টার্স ও এএফপির আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এই সক্ষমতা বৃদ্ধির অর্থ হলো আন্তর্জাতিক যেকোনো চাপ বা সরবরাহ লাইনে অবরোধ তৈরি হলেও ইরান দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম। তেহরানের এই স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার বার্তা ওমানের হরমুজ প্রণালিসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা সমীকরণ ও সামরিক ভারসাম্যকে নতুন করে পুনর্লিখনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।