× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে ৪ আরব দেশে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক:

১২ জুলাই ২০২৬, ২২:৩৫ পিএম । আপডেটঃ ১২ জুলাই ২০২৬, ২২:৩৭ পিএম

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান। ছবি: এপি

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ব্যাপক বিমান হামলার জবাবে আজ রোববার (১২ জুলাই) ভোরে জর্ডান, কুয়েত, ওমান ও কাতারে একযোগে স্মরণকালের ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের চলমান এই তীব্র সামরিক সংঘাতের ফলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই বৈরী দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মুখে পড়েছে। ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো এবং কাতারের কমান্ড স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এই সমন্বিত হামলার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, এই বিশেষ অভিযানে তারা জর্ডানের একটি মার্কিন মিত্র কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ও ড্রোন হ্যাঙ্গার ধ্বংস করেছে। কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন রাডার সাইটে আঘাত হেনেছে। ওমানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্মে হামলা চালিয়েছে এবং কাতারে একটি জেট রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়েছে। গত এপ্রিলের পর প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের ওপর এটিই প্রথম ইরানি হামলা। তবে মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলেও আঘাত করা হবে বলে গত শুক্রবার যে হুমকি ইরান দিয়েছিল। তা তারা এখনও কার্যকর করেনি।

ইরানি ভূখণ্ড থেকে ছিটকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দোহার উপকণ্ঠে এক শিশুসহ তিন জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে কাতার সরকার। অন্যদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী তাদের আকাশসীমায় শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার দাবি করেছে এবং জর্ডান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ইরানি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভোরে রাজ্যের বেশ কয়েকটি স্থানে এসে পড়েছে। তবে এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং ক্ষয়ক্ষতি কেবল সামান্য বস্তুগত লোকসানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।"

এই নজিরবিহীন হামলার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক এক চূড়ান্ত সংকটে রূপ নিয়েছে। ধারাবাহিক এই হামলার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ ফেব্রুয়ারির যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা দিলেও আলোচনার পথ এখনও খোলা রেখেছেন বলে জানিয়েছেন। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "একতরফা চুক্তির যুগ শেষ। আমরা আপনাদের বলেছিলাম: প্রতিশ্রুতি রাখুন অন্যথায় চড়া মূল্য দিন। বাস্তবতা এখন দরজায় কড়া নাড়ছে।"

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে ইরানি হামলার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওয়াশিংটন ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলায় কনটেইনার জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং একজন ভারতীয় ক্রু সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের প্রধান আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিটি ইরান পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে এবং আজ রোববার দ্বিতীয় আরেকটি জাহাজ অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে। এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের চিরতরে অবসান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির এই ভারসাম্য পরিবর্তনের খেলা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে এক দীর্ঘমেয়াদি মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক উপদেষ্টা হরমুজ প্রণালিকে ‘ডজন খানেক পারমাণবিক বোমার’ চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করে এই জলপথ রক্ষার যে শপথ নিয়েছেন। তা মার্কিন প্রশাসনকে এই অঞ্চলে নতুন কোনো সামরিক কৌশল গ্রহণে বাধ্য করতে পারে।


তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.