ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের পাঁচটি শহরে ছয় দিনব্যাপী অভূতপূর্ব রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহবাহী কফিন দেশটির পবিত্র নগরী মাশহাদে পৌঁছেছে। সমাপনী দিনের এই আয়োজনে লাখো মানুষের ঢল নামে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এই শীর্ষ ধর্মীয় নেতার জন্মস্থানে এসে পৌঁছায় তাঁর মরদেহ।
শোকার্ত জনতার বিশাল সমাগমে আজ মাশহাদের প্রধান প্রধান সড়কগুলো স্থবির হয়ে পড়ে। স্বর্ণগম্বুজবিশিষ্ট ঐতিহাসিক ইমাম রেজার মাজারের দিকে এগিয়ে যাওয়া এই শেষ শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকদের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার ছবি এবং এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিসংবলিত নানা প্ল্যাকার্ড।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামরিক বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশের নজর এখন খামেনির উত্তরাধিকারের দিকে। তবে এই দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেও খামেনির ছেলে ও তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, “গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যে যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছিলেন। সেই একই হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন থাকায় হয়তো এই জনসমুদ্রে উপস্থিত হতে পারেননি।”
পাকিস্তান ও ইরাক সীমান্ত সংলগ্ন এই অঞ্চলে খামেনির মরদেহ পৌঁছানোর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো ইরানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে তেহরানের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি নতুন করে উসকে উঠেছে।
ছয় দিনের এই দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষ হলেও খামেনির মৃত্যু-পরবর্তী ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামো এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ অক্ষের ভবিষ্যৎ রণকৌশল কোন দিকে মোড় নেয়। এখন সেটিই দেখার বিষয়। খামেনির জন্মস্থান মাশহাদেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে ইরানের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।