যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তি ‘সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে’ বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কঠোর অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে সরাসরি সামরিক সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
গতকাল বুধবার তুরস্কের আঙ্কারায় নেটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি তেহরানের তীব্র সমালোচনা করে এই মন্তব্য করেন।
আঙ্কারায় নেটো সম্মেলনের সাইডলাইনে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ইরানের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনা এখন স্রেফ ‘সময়ের অপচয়’। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে ইরানের মদদের বিরুদ্ধে নেটো মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সেন্টকমের হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের পাল্টা আঘাতের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প তেহরানের নেতৃত্বকে চরম ভাষায় আক্রমণ করেন। একই সঙ্গে তেহরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে না দেওয়ার বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "আমার মনে হয় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। আমি ওদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না, ওরা নিকৃষ্ট ও মিথ্যাবাদী। তাদের সঙ্গে কথা বলা শুধু সময়ের অপচয়। আমাদের চমৎকার আলোচকেরা চাইলে কথা বলতে পারেন। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের পেছনে আমার সময় নষ্ট করতে চাই না।"
ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক হামলা ও ইরানের কৌশলগত অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে একে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি সামরিক ভাষায় তেহরানকে সতর্ক বার্তা পাঠান।
ট্রাম্প আরও বলেন, "ওরা দুষ্ট ও অসুস্থ লোক, যেন একটা ক্যান্সার। আর আপনারা তো জানেনই কী করতে হবে—ক্যান্সারকে প্রথমেই কেটে ফেলতে হবে। আমরা গতরাতে তাদের ওপর কঠিন আঘাত হেনেছি এবং আমি বলেছি, প্রত্যেকবার তোমরা আঘাত করলে আমরাও পাল্টা আঘাত করব। আমাদের মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। আমরা একে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে যাচ্ছি।"
আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনাকে চূড়ান্ত রূপ দিতে পারে। নেটো মিত্ররা এই সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে কতটা দাঁড়াবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও। ট্রাম্পের এই ‘আঘাতের বদলে পাল্টা আঘাত’ নীতি বিশ্ব অর্থনীতি। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
