× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বাহরাইন ও কুয়েতে ৮৫ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আল–জাজিরা ও গালফ নিউজ

০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩:০৫ পিএম । আপডেটঃ ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩:৫৪ পিএম

মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত ইরানের বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর আগুনের শিখা ও ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় আকাশ। ছবি: ওসিনটেকনিক্যালের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত।

দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক বিমান হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে ইরানের বুশেহর প্রদেশের আকাশে আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান।

গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার ভোররাত পর্যন্ত চলা এই পাল্টাপাল্টি সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। 

সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার ইরানের ৮০টিরও বেশি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আকাশপথে নিখুঁত হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন সামরিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, রাডার স্থাপনা এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই আগ্রাসন চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানকে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ ও ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের সদর দপ্তর ‘খাতাম আল-আনবিয়া’। মার্কিন হামলার পরপরই এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তেহরান ‘বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া’র হুঁশিয়ারি দেয়। যার ফলশ্রুতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদেশ বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিগুলো রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহবি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আকাশপথে নগ্ন আগ্রাসনের জবাবেই আমরা বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনটি ভূপাতিত করেছি। আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানলে তার চড়া মূল্য চোকাতে হবে।"

সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির পেছনে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক একমুখী নীতিকে দায়ী করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি মার্কিন প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন।

গালিবাফ লিখেছেন, "হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম ব্যবস্থাপনার লঙ্ঘন, বারবার হামলার হুমকি, ইরানের তেল খাতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, দক্ষিণ ইরানে সরাসরি সামরিক হামলা এবং লেবাননে জায়নবাদী ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত রাখা—এ সবই দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের চরম লঙ্ঘন।"

কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরানের সামরিক কমান্ড। তেহরানের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলে কোনো ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপ বা মার্কিন আধিপত্য বরদাশত করা হবে না।

ইরানের বিবৃতিতে বলা হয়, "হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচলের একমাত্র আইনি পথ হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নির্ধারিত রুট। এই রুটের নিরাপত্তা বজায় রাখতে তেহরান যেকোনো স্তরের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।"

বিশ্লেষকদের মতে, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের এই নজিরবিহীন পাল্টা আঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতি এক অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ওয়াশিংটন এখনো এই ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা সূচকে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.