ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর এই অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রয়টার্স
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক তেল ট্যাংকারে হামলার জবাবে ইরানের ওপর আবারও ‘শক্তিশালী’ পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানসহ অন্তত ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে আঘাত হেনেছে। এই হামলার পর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করায় গত মাসেই স্বাক্ষরিত হওয়া ঐতিহাসিক মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকটি এখন চূড়ান্ত ভাঙনের মুখে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ফাইটার জেট ও ড্রোন থেকে চালানো এই হামলায় দেশটির কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। যদিও ট্যাংকারগুলোতে হামলার দায় তেহরান সরাসরি স্বীকার করেনি। তবুও ওয়াশিংটন আগেই সতর্ক করেছিল যে আন্তর্জাতিক জলপথে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের জন্য ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
সেন্টকমের হামলার ঘোষণার পরপরই মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ গত মাসে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যে সাময়িক ছাড় দিয়েছিল। তা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করে। এই পদক্ষেপকে চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং তেহরান নিজের ‘জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় চূড়ান্ত ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে হরমুজ প্রণালির এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। যেখানে সৌদি আরব ও কাতার সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কাতার ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রণালি অতিক্রম করার সময় তাদের ‘আল-রেকাত’ ও ‘ওয়াদিয়ান’ নামক দুটি তেল ট্যাংকার ইরানের দ্বারা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, "হরমুজ প্রণালির কাছে আমাদের জাহাজে উদ্দেশ্যমূলক হামলার জন্য আমরা ইরানকে সম্পূর্ণ দায়ী মনে করি। নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পদকে ঝুঁকির মুখে ফেলা থেকে তেহরানের বিরত থাকা উচিত।"
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই কাতারের এই অভিযোগকে ‘প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থী’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) নিশ্চিত করেছে। গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালিতে প্রজেক্টাইলের আঘাতে একাধিক ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার একটির ইঞ্জিন রুমে আগুনও ধরে যায়।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর ইরান বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণকারী এই হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওমানের সাথে যৌথ সমন্বয়ে প্রণালিটি পরিচালনার আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া যখন চলছিল। ঠিক তখনই নতুন করে শুরু হওয়া এই সামরিক সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিল।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
