তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানির কফিন। ৩ জুলাই ২০২৬। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠান আজ শনিবার রাজধানী তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক ভয়াবহ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুর পর আজ তাঁর প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সমবেত হয়েছেন লাখো শোকাহত ইরানি। ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনের ঠিক পাশেই স্থান পেয়েছে একই হামলায় নিহত তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানির একটি ছোট কফিন। পুরো অনুষ্ঠানস্থলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
ছয় দিনব্যাপী এই জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠান ইরান এবং প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এর অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার খামেনির মরদেহ তেহরানে আনা হলে জনসাধারণের জন্য গ্র্যান্ড মোসাল্লা উন্মুক্ত করার আগেই হাজার হাজার মানুষ সেখানে অবস্থান নেন। আজ সকালে অনুষ্ঠানস্থলের ফটক খুলে দেওয়া হলে বিশাল কমপ্লেক্সের মূল চত্বরটি দ্রুতই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
শোকের আবহের মধ্যেই আজ তেহরানের রাস্তায় নেমে আসা মানুষের মাঝে দেখা গেছে তীব্র ক্ষোভ। শোকমিছিলে অংশ নেওয়া লাখো মানুষের হাতে ছিল প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত লাল ব্যানার। এ সময় পুরো মোসাল্লা প্রাঙ্গণ ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানস্থলে খামেনির কফিনের ওপর ঐতিহ্যগতভাবে রাখা ছিল তাঁর ব্যবহৃত কালো পাগড়ি। তাঁর কফিনের পাশে পরিবারের অন্য সদস্যদের মরদেহের পাশাপাশি ১৪ মাসের শিশু নাতনির ছোট কফিনটি দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও শীর্ষ কর্মকর্তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। রাষ্ট্রীয় এই শোকের পরিধি উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি (১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন) মানুষ এই বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আবেগ ও শোকের ছায়া লক্ষ্য করা গেছে। বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী এক শোকগ্রস্ত ইরানি তরুণ বলেন, “আমি এখানে আমার প্রিয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বিদায় জানাতে এসেছি। আমি কখনো ভাবিনি এমন একটি দিন দেখতে হবে। এই ট্র্যাজেডি দেখার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো!”
গতকাল থেকেই ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিশ্ব নেতৃবৃন্দ প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেছেন। এ সময় ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে কফিনের পাশে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় দেখা যায়।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আহমদ ওয়াহিদিও। উল্লেখ্য, খামেনির সঙ্গে একই হামলায় নিহত পূর্বসূরির জায়গায় ওয়াহিদিকে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন তেহরানে রাখা হবে এবং সেদিন সেখানে একটি বিশাল শোকমিছিল বের করা হবে। এরপর মঙ্গলবার তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র কোম নগরীতে এবং বুধবার জানাজার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে। সবশেষ আগামী শুক্রবার উত্তর-পূর্ব ইরানে খামেনির জন্মশহর মাশহাদে তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে এই রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হবে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
