ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ আনুষ্ঠানিকতার শুরুতে তাঁর কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নিয়ে আসা হচ্ছে। ছবি: এপি
মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ আজ তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নিয়ে আসা হয়েছে। ৩৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা এই প্রভাবশালী নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শুরু হলো। গত যুদ্ধের শুরুতে সপরিবারে নিহত হওয়া এই নেতার শেষ বিদায়ে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ শেষকৃত্যের রেকর্ড। তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ নিজ শহর মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে দাফন করার কথা রয়েছে।
ইতিহাসের বৃহত্তম জনসমাগমের প্রস্তুতি
৩৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইরানের শাসনভার পরিচালনা করা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষযাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে তেহরানের নিরাপত্তা ও লজিস্টিক ব্যবস্থা সর্বোচ্চ স্তরে জোরদার করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে সকাল থেকেই লাখো মানুষের ঢল নেমেছে।
ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, "আমরা সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ২ কোটি শোকাতুর মানুষকে ধারণ করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। এই শেষকৃত্য কেবল একজন নেতার বিদায় নয়, বরং এটি জাতীয় সংহতির এক অভূতপূর্ব প্রদর্শন।"
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের অংশ হিসেবে ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা পরিচালিত হয়। ওই ভয়াবহ ও সুনির্দিষ্ট হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন।
রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই হামলায় ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তাও প্রাণ হারান। যা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের খবর, শেষকৃত্যের মূল আনুষ্ঠানিকতার আগে খামেনির কফিনটি প্রতীকীভাবে সেই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা হামলায় নিহত হন।
"সর্বোচ্চ নেতার কফিনটি সরাসরি হামলার স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য হলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি প্রমাণ করা যে, দেশের মাটি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অবিচল ছিলেন।"
— তেহরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোস্তফা খাকসার
তেহরানের বিশাল ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর খামেনির মরদেহ বিমানযোগে তাঁর নিজ জন্মভূমি মাশহাদ শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে অবস্থিত শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান 'ইমাম রেজা মাজারে' রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এই আকস্মিক প্রস্থান ও পরবর্তী শেষকৃত্যের এই বিশাল জনজোয়ার ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে যেমন প্রভাবিত করবে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা ও ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরোধকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
