ভারতের গুজরাটের কুচ জেলায় ভারী বুলডোজার ব্যবহার করে ঐতিহাসিক জুনা কান্তলা মসজিদসহ ৩০টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের গুজরাটের কুচ জেলায় কোনো প্রকার আগাম নোটিশ ছাড়াই একটি ঐতিহাসিক মসজিদসহ অন্তত ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
গত বুধবার (১ জুলাই) পরিচালিত এই আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানে ধর্মীয় উপাসনালয় ছাড়াও ১৭টি বাণিজ্যিক ভবন ও দুটি আবাসিক অবকাঠামোসহ মোট ৩০টি স্থাপনা ধ্বংস করা হয়।
প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ভেঙে ফেলার এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তুর্কি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম 'টিআরটি ওয়ার্ল্ড' এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দি হিন্দুস্তান গ্যাজেট'-এর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর মধ্যে তিনটি মসজিদ ও বেশ কয়েকটি মাজার রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম ঐতিহাসিক জুনা কান্তলা মসজিদ। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, এই প্রাচীন মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়াকফ বোর্ডের তালিকাভুক্ত সম্পত্তি ছিল।
ঘটনার পর কুচ জেলা পরিদর্শন করেছে ভারতের প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠন 'জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ'-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাকিমউদ্দিন কাসেমী অভিযোগ করেন, “কোনো ধরনের আগাম আইনি নোটিশ বা সতর্কবার্তা ছাড়াই প্রশাসন অত্যন্ত আকস্মিকভাবে এই অভিযান চালিয়েছে এবং ঐতিহাসিক মসজিদসহ পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনাগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।”
একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঐতিহাসিক জুনা কান্তলা মসজিদের খাদেম। তিনি জানান, শত বছরের প্রাচীন এই স্থাপনাটি রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তিপূর্ণ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে প্রশাসন তাদের দাবি তোয়াক্কা না করে উল্টো আটকের হুমকি দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরপূর্বক সম্পন্ন করে।
অন্যদিকে, উচ্ছেদ অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়ে স্থানীয় প্রশাসন দাবি করেছে, কেবল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবেই এই ৩০টি অবকাঠামো সরানো হয়েছে। তবে ওয়াকফ তালিকাভুক্ত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনায় কোনো প্রকার আইনি নোটিশ না দিয়ে কেন এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হলো—সংগঠন ও স্থানীয়দের এই সুনির্দিষ্ট এবং গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে উচ্ছেদের নামে বুলডোজার সংস্কৃতির ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গুজরাটের এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং প্রাচীন ঐতিহ্য সুরক্ষার প্রশ্নটিকে নতুন করে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিল। ঘটনার পর থেকে কুচ জেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
