× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কাতার বৈঠক শেষ

খামেনির দাফনের পরই আবার মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১৬:৪৪ পিএম । আপডেটঃ ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭:২১ পিএম

গত ফেব্রুয়ারিতে নিহত হলেও এখনো দাফন সম্পন্ন হয়নি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, অবরুদ্ধ অর্থ ছাড় ও পরমাণু কর্মসূচির মতো ভূকৌশলগত জটিল ইস্যুগুলো সমাধানে কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দুই দিনব্যাপী পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। স্থায়ীভাবে যুদ্ধাবসান ও দ্বিপাক্ষিক অমীমাংসিত সংকটের টেকসই সমাধানে উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হলেও, আগামী ৯ জুলাই ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার আগে পরবর্তী বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। 

বুধবার (১ জুলাই) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি জানান, দুই দিন ধরে চলা এই পরোক্ষ আলোচনায় চূড়ান্ত কোনো চুক্তি সই না হলেও বেশ কিছু বিষয়ে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ অর্জিত হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে গত মাসে দু'দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আলোকে এই বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে দোহায় অবস্থান করলেও ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে তাদের কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষ আলাদাভাবে এই পরোক্ষ সংলাপে অংশ নেয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার কাজ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। এখন দেখা যাক কী হয়।"

এদিকে, দীর্ঘ চার মাস পর ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক স্থবিরতা কাটানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের একেবারে শুরুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চরম যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় তেহরান তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি। সম্প্রতি ওয়াশিংটনের সাথে যুদ্ধ অবসানের প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ায় আগামী সপ্তাহে খামেনির দাফনকাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। এ লক্ষ্যে দেশটিতে সপ্তাহব্যাপী শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে এবং আগামী ৯ জুলাই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন করা হবে। কাতারি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই দাফন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই কেবল পরবর্তী বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে।

সদ্য সমাপ্ত দোহা বৈঠকে মূলত দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। ওই চুক্তিতে লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। এর আগে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপস্থিতিতে প্রথম দফার আলোচনায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে শান্তি আলোচনার সমান্তরালে রণাঙ্গনের উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির ওমান জলসীমা উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়, যা এই দোহা বৈঠককে জরুরি করে তোলে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি গণমাধ্যমকে বলেন, "দ্রুত সময়ের মধ্যে দু'পক্ষের পর্যবেক্ষণকারী দলের মধ্যে যোগাযোগ চ্যানেল স্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কে কতটুকু লঙ্ঘন করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এগুলো নথিভুক্ত করে পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

স্থায়ী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জনে এই আলোচনাকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। খামেনির দাফন-পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান কত দ্রুত চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতি ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারের নিরাপত্তা।


তথ্যসূত্র: বিবিসি 



National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.