× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

খামেনির শেষ বিদায়

ইরানের আমন্ত্রণ সত্ত্বেও কেন যাচ্ছেন না মোদি?

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০১ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ এএম । আপডেটঃ ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৭ এএম

নরেন্দ্র মোদি ও প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ফাইল ছবি: এপি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, সেখানে যাচ্ছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ঐতিহাসিক ও ভূকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে অংশ নিতে মোদির পরিবর্তে নয়াদিল্লি একজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন রাজ্যের গভর্নরকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে দেশটির ভারসাম্য রক্ষার নীতি নাকি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের (ইসরায়েল) দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত। তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই ইরানের তেহরান, কোম ও খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন কয়েক দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে ভারত মোদির পরিবর্তে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এবং বিহারের গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইনকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতের এই সিদ্ধান্তকে প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনমন হিসেবে দেখছেন সমালোচকদের একটি বড় অংশ। ২০২৪ সালে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি যখন বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। তখন ভারতের পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। খামেনির মতো একজন রাষ্ট্রপ্রধান ও আধ্যাত্মিক নেতার বিদায়ের দিনে ভারতের প্রতিনিধি দলের স্তর নামিয়ে আনার বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতীয় আইনজীবী ও লেখক নভরুপ সিং। তিনি বলেন, "একজন রাজ্যের গভর্নরকে পাঠানোই বলে দেয় ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারত কতটা আন্তরিক। ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ভারতের ঝুঁকে পড়া এখন আরও দৃশ্যমান। সত্যি বলতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অগ্রাধিকার গুলিয়ে ফেলেছে।"

একই সুর শোনা গেছে ভারতের বিশিষ্ট কৌশলগত বিশ্লেষক ব্রহ্ম চেলানির কণ্ঠেও। তিনি বলেন, "খামেনি কেবল আধ্যাত্মিক নেতাই ছিলেন না, বরং ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানও ছিলেন। মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত করে যে ইরান যুদ্ধে আক্রমণকারী দেশগুলোর প্রতি মোদির পক্ষপাত এখনও বজায় রয়েছে। উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি না পাঠিয়ে নয়াদিল্লি মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে অসন্তুষ্ট না করার চেষ্টা করছে।"

সাংবাদিক ও লেখক সাবা নকভি জানান, যেখানে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান তাদের প্রধানমন্ত্রীকে এই অনুষ্ঠানে পাঠাচ্ছে, সেখানে ভারতের এই সিদ্ধান্ত দুর্বল ও কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রবীন সাহনি মনে করেন, বিশ্বজুড়ে যখন শতাব্দীর বড় পরিবর্তন ঘটছে, তখন ভারত গ্লোবাল সাউথ এবং নতুন বিশ্বব্যবস্থার পাশে না দাঁড়িয়ে ভুল করলো। এর ফলে এ বছর ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্ব থেকেও বিশেষ কিছু আশা করা যায় না।

তবে সব কূটনৈতিক বিশ্লেষক এই পদক্ষেপকে ভারতের বৈরী আচরণ বা অবমাননা হিসেবে দেখছেন না। অনেকে মনে করছেন, এটি ভারতের দীর্ঘদিনের ‘কূটনৈতিক ভারসাম্য’ বজায় রাখার একটি সুচিন্তিত কৌশল। এই বিষয়ে তিনি বলেন, "প্রতিনিধি দলের পদমর্যাদা দেখেই চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ১৯৮৯ সালেও (প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুতে) ভারত রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী কাউকে পাঠায়নি, তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিভি নরসিমহা রাও অংশ নিয়েছিলেন। হয়তো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পদের পার্থক্যের কারণে রাইসি ও খামেনির বেলায় প্রোটোকলে ভিন্নতা রাখা হয়েছে।"

ভারতের পররাষ্ট্র নীতি দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও বহুমুখী ভারসাম্যের ওপর জোর দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সমীকরণের কারণে তেহরানের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে কিছু জটিলতা থাকলেও, চাবাহার বন্দর উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক জ্বালানি রুটের মতো বাস্তবসম্মত ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা কিন্তু এখনও চলমান রয়েছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভারত একদিকে যেমন ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে চায় না। ঠিক তেমনি রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ বা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের এই আবহে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ককে জটিলতায় ফেলতে নারাজ। শেষ পর্যন্ত এই প্রতিনিধি দল পাঠানোর মাধ্যমে নয়াদিল্লি তেহরানের সঙ্গে সুতা বজায় রাখার পাশাপাশি পশ্চিমা মিত্রদেরও একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা দিল বলে মনে করা হচ্ছে।


তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.