হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে টহল দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীতে পানামার একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জের ধরে ইরানি সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। রবিবার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, স্থানীয় সময় শনিবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের পাঁচ উপকূলীয় ঘাঁটির সামরিক সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী হামলা চালায়। এর কয়েক ঘণ্টার মাঝেই তীব্র পাল্টা জবাব হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মাত্র এগারো দিন আগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি এই অভূতপূর্ব সামরিক সংঘাতের ফলে এখন সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে তেহরানের ‘অব্যাহত আগ্রাসনের’ জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, “ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এমটি কিকু’-তে ড্রোন হামলা চালিয়ে সেই সুযোগ নষ্ট করেছে।” এই হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, “এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন আমাদের পক্ষে আর সংযত থাকা সম্ভব হবে না। যদি আমরা সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ করতে বাধ্য হই। তবে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না!”
অন্যদিক, তেহরান এই মার্কিন হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘চুক্তিভঙ্গকারী’ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র একটি অপরাধী জাহাজের বিরুদ্ধে আমাদের নৌবাহিনীর বৈধ অভিযানের অজুহাতে এই হামলা চালিয়েছে। যেকোনো শত্রুর আগ্রাসনের জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর ও বিধ্বংসী।” তেহরানের দাবি, গত ১৭ জুনের ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির নৌপথ নিয়ন্ত্রণের আইনি অধিকার ইরানের রয়েছে এবং নিয়ম ভঙ্গ করায় তারা সিঙ্গাপুর ও পানামার জাহাজে অভিযান চালিয়েছিল। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “সবাইকে জেনে রাখা উচিত। হরমুজ প্রণালীর প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা আর কখনো যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।”
ইরানের এই আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং কুয়েত ও বাহরাইন তাদের সর্বোচ্চ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেছে, “আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে।” বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নাগরিকদের শান্ত থেকে নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান ধমনী এই হরমুজ প্রণালী। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত যদি অবিলম্বে থামানো না যায়, তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও আকাশচুম্বী হবে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদেরা।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
